মণিপুরে ফের অশান্তি, বিষ্ণুপুরে কুকি উগ্রপন্থীদের বোমা হামলায় প্রাণ হারাল দুই শিশু

মণিপুরে জাতিদাঙ্গার রেশ যেন কাটছেই না। উত্তর-পূর্বের এই অশান্ত রাজ্যে ফের এক ভয়াবহ হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বিষ্ণুপুর জেলায় কুকি উগ্রপন্থীদের ছোঁড়া বোমার আঘাতে দুই নিষ্পাপ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার গভীর রাতের এই অতর্কিত হামলাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটা নাগাদ বিষ্ণুপুর জেলার মইরাং ট্রোংলাওবি গ্রামের একটি বসতবাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় কুকি জঙ্গিরা। গ্রামবাসীরা যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক সেই সময়েই ভারী অস্ত্র ও বোমা নিয়ে অতর্কিত আক্রমণ শুরু হয়। একটি নির্দিষ্ট বাড়িতে বোমাটি সরাসরি আঘাত করলে মুহূর্তেই সব লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।
এই বিস্ফোরণের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই পাঁচ বছর বয়সী এক বালক এবং মাত্র ছয় মাস বয়সী এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। ঘুমের মধ্যেই চিরতরে হারিয়ে গেল এই দুই কচি প্রাণ। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব স্থানীয় বাসিন্দারা যখন উদ্ধারের জন্য ছুটে আসেন, ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি মণিপুরের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
বোমার আঘাতে ওই দুই শিশুর মা-ও গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বাড়ির একাংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই নারকীয় হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে ওই গ্রামে। স্বজনহারাদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
রাজ্য পুলিশের পদস্থ কর্তারা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কুকি জঙ্গিদের এই দৌরাত্ম্য রুখতে ওই এলাকায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক কাজ করছে। মণিপুরের সাম্প্রতিক অস্থিরতার ইতিহাসে এই ঘটনাটি অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।
বিষ্ণুপুর এবং পার্শ্ববর্তী সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের সৃষ্টি না হয়। শিশুদের ওপর এমন নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন মহল। শান্তি পুনরুদ্ধারের সব প্রচেষ্টাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উগ্রপন্থীদের এই সক্রিয়তা রাজ্য সরকারকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।