মতুয়াগড় বনগাঁয় মমতার যুবসাথী প্রকল্পে আবেদনের জোয়ারে দিশেহারা বঙ্গ বিজেপি

মতুয়াগড় বনগাঁয় মমতার যুবসাথী প্রকল্পে আবেদনের জোয়ারে দিশেহারা বঙ্গ বিজেপি

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং নাগরিকত্ব ইস্যুতে যখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি, ঠিক তখনই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত মতুয়াগড় বনগাঁয় রাজ্য সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে আবেদনের পাহাড়প্রমাণ ভিড় গেরুয়া শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে রাজ্যে প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাতিলের জেরে এমনিতেই ক্ষোভ বাড়ছে জনমানসে। এই আবহে বনগাঁ মহকুমার ব্লক ও পুরসভাগুলোতে যুবসাথী প্রকল্পে জমা পড়া রেকর্ড সংখ্যক আবেদন বিজেপির জনভিত্তিতে বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

বিজেপির রথযাত্রা যখন বিভিন্ন জেলায় সেভাবে সাড়া ফেলতে পারছে না এবং পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে স্বয়ং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতেই রথের চাকা মাটিতে বসে যাওয়ার মতো বিপত্তি ঘটছে, তখন বনগাঁর চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারংবার মতুয়াদের নাগরিকত্বের আশ্বাস দিলেও স্থানীয় স্তরে সরকারি প্রকল্পের প্রতি মানুষের এই বিপুল আগ্রহ বিজেপির জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বনগাঁ মহকুমার তিনটি ব্লক ও দুটি পুরসভা মিলিয়ে মোট ৭৬ হাজার ৮৬১টি আবেদন জমা পড়েছে, যা জেলার অন্যান্য প্রান্তের তুলনায় অনেক বেশি। এর মধ্যে বনগাঁ ব্লকে ২৪ হাজার ৭১৯টি এবং গাইঘাটায় ২১ হাজার ৫১৫টি আবেদন জমা পড়েছে।

তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, সাধারণ মানুষ এখন বুঝতে পারছেন কারা প্রকৃত উন্নয়ন করছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী জানান, জেলায় মোট ৫ লক্ষ ৩০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়লেও বিজেপির গড় হিসেবে পরিচিত বনগাঁ থেকেই সবচেয়ে বেশি সাড়া মিলেছে। রাজ্য সরকার পরিষেবার ক্ষেত্রে কোনো রাজনীতি দেখে না বলেই মানুষ দুহাত উজাড় করে এই প্রকল্প গ্রহণ করছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে এসআইআর জটিলতা আর অন্যদিকে রাজ্য সরকারের জনমুখী প্রকল্পের সাফল্য— এই জোড়া ফলায় আগামী নির্বাচনে বনগাঁর বিধানসভা আসনগুলোতে বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে পদ্ম শিবির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *