মতুয়াদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ফের নাগরিকত্বের ‘টোপ’ প্রধানমন্ত্রীর!

শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে আয়োজিত হাইভোল্টেজ নির্বাচনি সভা থেকে মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্ব নিয়ে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার উত্তরবঙ্গের এই রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে তিনি একদিকে যেমন মতুয়াদের নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন, অন্যদিকে পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান বা কর্মসংস্থানের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে নীরব থেকেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই দ্বিমুখী অবস্থান ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
মতুয়া তাস ও নাগরিকত্বের গ্যারান্টি
রাজ্যের জলপাইগুড়ি, মাটিগাড়া, নকশালবাড়ি এবং রাজগঞ্জ এলাকায় মতুয়া ও নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের বড় ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এসআইআর (SIR)-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে বহু মতুয়ার নাম বাদ পড়া নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যদিও ট্রাইব্যুনাল অনেকের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে, তবুও আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল হলো মিথ্যার ফ্যাক্টরি। সিএএ-র মাধ্যমে মতুয়াদের দেশের নাগরিকের সমান অধিকারের গ্যারান্টি দিচ্ছি আমি।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাকে প্রশমিত করতেই প্রধানমন্ত্রীর এই ‘নাগরিকত্ব’ কার্ড। তবে বিরোধী শিবির একে নির্বাচনি ‘টোপ’ বা ‘গাজর’ হিসেবেই দেখছে।
পাহাড় ও কর্মসংস্থান নিয়ে নীরবতা
শিলিগুড়িতে সভা করলেও পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান কিংবা ১১টি জনজাতি গোষ্ঠীকে স্বীকৃতির বিষয়ে এদিন প্রধানমন্ত্রীর মুখে কোনো কথা শোনা যায়নি। দার্জিলিং লোকসভা আসনটি ২০০৯ সাল থেকে বিজেপির দখলে থাকলেও পাহাড়ের মৌলিক দাবিগুলো নিয়ে নীরবতা পাহাড়বাসীকে হতাশ করেছে বলে দাবি বিরোধীদের।
বক্তৃতায় মোদি দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ এবং উত্তরবঙ্গের বঞ্চনা নিয়ে সরব হলেও পাহাড়ের নেতাদের প্রত্যাশিত কোনো বড় ঘোষণা আসেনি। উত্তরবঙ্গের ক্রীড়া প্রতিভা রিচা ঘোষ ও মান্তু ঘোষের নাম উল্লেখ করে একটি স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও নতুন কর্মসংস্থান নিয়ে তাঁর ভাষণে কোনো নির্দিষ্ট দিশা ছিল না।
তীব্র বিরোধিতায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় তুলেছে তৃণমূল, বাম এবং বিজিপিএম।
- তৃণমূলের বক্তব্য: তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পর এখন সহানুভূতির নাটক করা হচ্ছে। এটি কেবলই ভোট পাওয়ার কৌশল।
- জিটিএ ও পাহাড়ের প্রতিক্রিয়া: জিটিএ-র চিফ এগজিকিউটিভ অনীত থাপার দলের মতে, বিজেপি ২০০৯ সাল থেকে পাহাড়ের সমর্থন পেলেও বিনিময়ে কেবল মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
- বামপন্থীদের প্রতিক্রিয়া: সিপিএমের জেলা নেতৃত্বের দাবি, প্রধানমন্ত্রী কোনো গঠনমূলক উন্নয়নের কথা না বলে কেবল আরএসএস-এর অ্যাজেন্ডা ও মেরুকরণের রাজনীতি প্রচার করতেই শিলিগুড়িতে এসেছেন।
একঝলকে
- শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনি সভা।
- সিএএ-র মাধ্যমে মতুয়াদের নাগরিকত্বের অধিকার দেওয়ার নতুন প্রতিশ্রুতি।
- পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান ও ১১টি জনজাতির স্বীকৃতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা।
- দুর্নীতি ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ।
- শিলিগুড়িতে স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি তৈরির কথা ঘোষণা।
- বিরোধীদের মতে, এই নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি ভোটারদের বিভ্রান্ত করার ‘সেরা টোপ’।