মধ্যপ্রাচ্যের সর্বোচ্চ বি১ সেতুতে ইজরায়েল ও আমেরিকার ভয়াবহ বিমান হামলা, তছনছ ইরান

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে এক নজিরবিহীন ধ্বংসলীলার সাক্ষী হলো মধ্যপ্রাচ্য। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার এই মহাযুদ্ধের মাঝে এবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সর্বোচ্চ ও আধুনিকতম বি১ সেতুকে। ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ বিমান হামলায় ১,০৫০ মিটার দীর্ঘ এই বিশাল স্থাপত্যটি মাঝখান থেকে দু’টুকরো হয়ে গিয়েছে। যুদ্ধের ভয়াবহতা যে কোনো সীমা মানে না, এই ঘটনাটি তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশাল এই সেতুটি ইরানের রাজধানী তেহরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ শহর করজকে সরাসরি সংযুক্ত করত। স্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আলবুর্জ প্রদেশের করজ শহরের আজিমিয়েহ এলাকার কাছাকাছি এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিমান হামলার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং বেশ কিছু মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতেই উদ্বোধন হওয়া এই বি১ সেতুটি ছিল পশ্চিম এশিয়ার অন্যতম সেরা ইঞ্জিনিয়ারিং নিদর্শণ। প্রায় ৩৭০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটির উচ্চতা ছিল ১৩৬ মিটার। তেহরানের সঙ্গে উত্তরের প্রদেশগুলোর যোগাযোগ ও আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এটি অত্যন্ত কৌশলগতভাবে তৈরি করা হয়েছিল। করজ উত্তর বাইপাস হাইওয়ের ওপর অবস্থিত এই পরিকাঠামোটি ধ্বংস হওয়ায় এখন ওই অঞ্চলের যাতায়াত ও বাণিজ্যিক সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, তেহরানের মধ্য, পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্ত থেকে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা গিয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট কোন কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে তা এখনো সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়, তবে এই ঘটনায় তেহরানবাসীর মধ্যে তীব্র ত্রাসের সৃষ্টি হয়েছে। হামলার পরপরই শহরের আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। এই হামলার দায় ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ অভিযানের ওপরই বর্তানো হচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত হতাহতের কোনো চূড়ান্ত পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি। তবে প্রাথমিক তথ্যানুসারে অনেক মানুষ গুরুতর জখম হয়েছেন এবং উদ্ধারকাজ চলছে। স্থানীয় পরিকাঠামোর এমন অপূরণীয় ক্ষতি ইরানের অর্থনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ধ্বংসযজ্ঞের ফলে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম জটিল এই ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্টটি ধ্বংস হওয়ার ফলে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তার সংকট নতুন মাত্রা পেয়েছে। জরুরি পণ্য সরবরাহ ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পথ রুদ্ধ হওয়ায় মানবিক বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই হামলা কেবল ইরানের সামরিক শক্তিকেই নয়, বরং দেশটির সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়নকেও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল।