মধ্যপ্রাচ্যে আছড়ে পড়ল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র, উত্তাল জ্বালানি বাজার ও ঘনীভূত যুদ্ধ পরিস্থিতি

মধ্যপ্রাচ্যে আছড়ে পড়ল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র, উত্তাল জ্বালানি বাজার ও ঘনীভূত যুদ্ধ পরিস্থিতি

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এখন এক চরম উত্তেজনার শিখরে অবস্থান করছে। শুক্রবার ইরান ইসরায়েলসহ একাধিক উপসাগরীয় দেশ লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করায় সমগ্র অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। হামলার সময় ইরানের রাজধানী তেহরান এবং মধ্যঞ্চলীয় শহর ইসফাহান ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে। এই আকস্মিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

ইসরায়েলের পাশাপাশি বাহরাইন ও কুয়েত তাদের নাগরিকদের জন্য বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছে। ইরান সমর্থিত ড্রোন কুয়েতের ‘মিনা আল-আহমাদি’ তেল শোধনাগারে আঘাত হানলে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর এটি তৃতীয় বড় হামলা। যদিও কোনো প্রাণহানির খবর মেলেনি, তবে দমকলকর্মীরা দীর্ঘক্ষণ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইরানের এই পদক্ষেপ এবং ‘স্ট্রেইট অফ হরমুজ’-এর ওপর তাদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের পাঁচভাগের একভাগ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে; মার্কিন বেঞ্চমার্ক ক্রুড ১১.৪ শতাংশ এবং ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানরা সিউলে জরুরি বৈঠক করেছেন।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ ইরানের ওপর কঠোর আঘাত অব্যাহত থাকবে। আমেরিকার বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইতোমধ্যে ক্রোয়েশিয়া থেকে রওনা দিয়েছে এবং আরও দুটি যুদ্ধজাহাজ আগে থেকেই ওই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। তবে সিআইএ-র প্রাক্তন পরিচালক বিল বার্নস এই পরিস্থিতিকে ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতেও জ্বালানি হাহাকার শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি অফিসের সময় কমানোসহ বিপণিবিতান দ্রুত বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়ার মতো রাজ্যে ডিজেল সংকট দেখা দেওয়ায় কয়েকশ পেট্রোল পাম্প অচল হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষকে কেবল শহর থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছে অস্ট্রেলীয় সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *