মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের জোরালো প্রত্যাঘাত: উত্তপ্ত হরমুজ প্রণালী, শান্তি ফেরাতে তেহরানের তিন শর্ত

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইজরায়েলের লাগাতার হামলার জবাবে পালটা ভয়ংকর প্রত্যাঘাত শুরু করেছে ইরান। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এবং ইরাকের আল-ফ বন্দরে তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে তেহরান। কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও সৌদি আরব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখে দেওয়ার দাবি করলেও সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজে হামলায় দুই ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু ও একজন নিখোঁজ হওয়ার খবর মিলেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যুদ্ধ থামাতে তিনটি কঠিন শর্ত দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর দাবি, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো আগ্রাসন চালানো হবে না—এই মর্মে আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি দিতে হবে। তেহরানের হুঁশিয়ারি, এই শর্তগুলি পূরণ না হলে এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ অব্যাহত থাকলে তারা আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) স্পষ্ট জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার বাইরে এক লিটার তেলও যেতে দেওয়া হবে না। পালটা হুমকি দিয়ে আমেরিকা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করলে ইরানকে চরম পরিণতির মুখে পড়তে হবে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং সেখানে মাইন বোঝাই নৌযান মোতায়েন করায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। উত্তপ্ত এই ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশ্বশক্তির নজর এখন তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।