মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অনড় ভারত

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতায় ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। সোমবার রাজ্যসভায় পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও ভারতের উপভোক্তাদের স্বার্থরক্ষণই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিএস) বিশেষ বৈঠক করেছে এবং সরকার সামগ্রিক প্রভাব মূল্যায়ন করছে।
সংকট নিরসনে ভারত আলোচনা ও কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছে। জয়শংকর স্পষ্ট জানান, সংঘাত এড়াতে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন করতে হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি সংলাপের মাধ্যমেই উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানানো হয়েছে। ভারতের জাতীয় স্বার্থ এবং নাগরিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
মানবিক ও কৌশলগত অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বিদেশমন্ত্রী জানান, ভারতের বন্দরে তিনটি ইরানি জাহাজকে আশ্রয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে একটি বর্তমানে কোচি বন্দরে রয়েছে। এই পদক্ষেপের জন্য দিল্লির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ভারত তার কূটনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।