মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত জ্বালানি যুদ্ধ: ইরান-আরব সংঘাতের জেরে ভারতে চরম সংকটের আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া ‘জ্বালানি যুদ্ধ’ এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। তিন সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া উত্তেজনার আবহে এবার সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতের তেল ও গ্যাস ভাণ্ডারে সিরিজ হামলা চালিয়েছে ইরান। লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে অবস্থিত সৌদির ‘আরামকো’ শোধনাগার এবং কাতারের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস ঘাঁটিতে তেহরানের এই বিধ্বংসী বিমান হানায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ইরান অবরুদ্ধ করে রাখায় বিকল্প পথ হিসেবে ইয়ানবু বন্দরটি ব্যবহৃত হচ্ছিল। কিন্তু সেখানেও আক্রমণ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের ঘাটতি নিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন পরিকল্পিতভাবে বিপক্ষ শিবিরের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড অর্থাৎ জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে।
এই সংঘাতের জেরে ভারতের জন্য অশনিসংকেত দেখা দিচ্ছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৫০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার বড় অংশই আসে কাতার থেকে। কাতারের গ্যাস ঘাঁটিতে হামলার ফলে ভারতে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানির ব্যাপক টানাপড়েন সৃষ্টি হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশীয় বাজারে গ্যাসের ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।