মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের দামামা! আমেরিকা ও ইসরায়েলের চক্রব্যূহে ইরান কি একাই যথেষ্ট

নিউজ ডেস্ক : আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য। একদিকে আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিধ্বংসী সামরিক জোট, অন্যদিকে একরোখা ইরান। ওয়াশিংটন দাবি করছে এই যুদ্ধ হবে ‘ওয়ান সাইডেড’ বা একতরফা। কিন্তু সত্যিই কি তাই? নাকি পারস্য উপসাগরের নীল জলে লুকিয়ে আছে কোনো ভয়ঙ্কর চমক? চলুন দেখে নেওয়া যাক দুই পক্ষের শক্তির আসল সমীকরণ।
আমেরিকার ‘মাস্টারপ্ল্যান’ ও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের দুর্ভেদ্য দুর্গ
আমেরিকার সামরিক শক্তির মূল কেন্দ্রবিন্দু এখন মধ্যপ্রাচ্য। বিশ্বের ৫১টি দেশে ১২৮টি ঘাঁটি থাকলেও, বর্তমানে তাদের শক্তির অর্ধেকটাই মোতায়েন করা হয়েছে এই তপ্ত অঞ্চলে।
- বিশাল সেনাবহর: মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।
- সমুদ্রের দানব: মার্কিন নৌবাহিনীর গর্ব ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ এবং ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’—এই দুটি বিমানবাহী রণতরী এখন টহল দিচ্ছে আরব সাগরে। এদের সঙ্গে রয়েছে এফ-১৮ ফাইটার জেট এবং রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম এফ-৩৫ স্টিলথ বিমান।
- আকাশ প্রতিরক্ষা: শত্রুর যেকোনো মিসাইল মাঝপথে ধ্বংস করতে মোতায়েন রয়েছে থাড (THAAD) এবং প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম।
বন্ধুরাষ্ট্র যখন আমেরিকার শক্তির উৎস
আমেরিকা একা নয়, তাদের হাতের মুঠোয় রয়েছে বেশ কিছু আরব দেশ:
- বাহরাইন: এখানে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর। ৪টি যুদ্ধজাহাজ ও ৯ হাজার সেনা সার্বক্ষণিক পাহারায় নিযুক্ত।
- কাতার: দোহায় অবস্থিত আল উদাইদ ঘাঁটিতে রয়েছে ১০ হাজার মার্কিন সেনা। এটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান কার্যালয়।
- সংযুক্ত আরব আমিরাত: আবুধাবির আল দাফরা ঘাঁটিতে রয়েছে মার্কিন ড্রোন বহর ও ১০টি ফাইটার স্কোয়াড্রন।
- কুয়েত ও ইরাক: ইরাকে ২,৫০০ সেনা এবং কুয়েতের আরিফজান ঘাঁটির মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে পেন্টাগন।
ইসরায়েলের মারণাস্ত্র ও রণকৌশল
সংখ্যার বিচারে ইরান বড় হলেও প্রযুক্তিতে ইসরায়েল অনেক এগিয়ে।
- আকাশপথের রাজা: ইসরায়েলের হাতে রয়েছে ৬০০টি অত্যাধুনিক এফ-১৬ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান।
- অভেদ্য দেওয়াল: আয়রন ডোম, ডেভিড সলিং এবং অ্যারো মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম ইসরায়েলকে সুরক্ষিত রাখে।
- পারমাণবিক শক্তি: অপ্রকাশিত হলেও ধারণা করা হয় ইসরায়েলের কাছে ৯০টিরও বেশি পারমাণবিক অস্ত্র মজুত রয়েছে।
ইরান কি সত্যিই দুর্বল? তেহরানের তুরুপের তাস
আমেরিকা ও ইসরায়েলের এই বিশাল শক্তির সামনে ইরান কিন্তু মোটেও হাত গুটিয়ে বসে নেই। তাদের শক্তির উৎস হলো:
- বিশাল পদাতিক বাহিনী: ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ৬.১ লক্ষ সদস্যের। এর সঙ্গে রয়েছে প্রশিক্ষিত ২ লক্ষ ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস’ (IRGC)।
- মিসাইল ভাণ্ডার: তেহরানের হাতে রয়েছে ৩,০০০-এর বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ১,৫০০টি মোবাইল রকেট লঞ্চার।
- হরমুজ প্রণালীর আতঙ্ক: ইরানের নৌবাহিনীর কাছে ৬,০০০ সামুদ্রিক মাইন রয়েছে। যদি ইরান এই মাইনগুলো ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামতে বাধ্য।
মার্কিন রণতরী আর ইসরায়েলি প্রযুক্তির বিরুদ্ধে ইরানের এই বিশাল মিসাইল বাহিনী এবং ভৌগোলিক অবস্থান যুদ্ধকে কতটা প্রলম্বিত করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। যুদ্ধের ময়দানে পাল্লা কার দিকে ভারী হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।