মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ট্রাম্পের মিশ্র বার্তা ও ইরানের পালটা হুঁশিয়ারিতে ঘনীভূত সংকট

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ট্রাম্পের মিশ্র বার্তা ও ইরানের পালটা হুঁশিয়ারিতে ঘনীভূত সংকট

ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত দিলেও, পরক্ষণেই সামরিক অভিযান জারি রাখার কথা জানান। বর্তমানে মার্কিন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরব থেকে তাদের কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনেইয়ের শাসনে তেহরান আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ননসেন্স’ আখ্যা দিয়ে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড (IRGC) সাফ জানিয়েছে, হামলা বন্ধ না হলে তারা বিশ্ববাজারে তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে।

মার্কিন ও ইজরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো ও ড্রোন তৈরির ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তেহরান ও আলবুর্জ প্রদেশের অন্তত পাঁচটি তেল ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে রাজধানীর আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে এবং অ্যাসিড বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মার্কিন দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানের ফলে ইরানের ড্রোন হামলার সক্ষমতা প্রায় ৮৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের কাছে পর্যাপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত রয়েছে, যা দিয়ে তারা অন্তত ছয় মাস দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম।

বিশ্ব অর্থনীতিতে এই যুদ্ধের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে, বিশেষত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকিতে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা নিরাপদ বোধ না করলে কাউকেই তেল রপ্তানি করতে দেবে না। এর বিপরীতে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে হামলার তীব্রতা ২০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে। বর্তমানে দুই পক্ষই দূরপাল্লার উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ও নতুন রণকৌশল গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রশস্ত হওয়ার বদলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *