মধ্যপ্রাচ্য সংকটে কি জ্বলবে ভারতের হেঁশেল? পেট্রোল ও গ্যাসের জোগান নিয়ে এল বড় সুখবর

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার মাঝেও ভারতবাসীর জন্য স্বস্তির বার্তা দিল কেন্দ্র। পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখতে কোমর বেঁধে নেমেছে সরকার। সম্প্রতি গ্যাস সংকটের গুজবে হাহাকার তৈরি হলেও পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।
গ্যাস ও জ্বালানি নিয়ে সরকারের মাস্টারপ্ল্যান
গুজবের জেরে রান্নার গ্যাসের বুকিং একলাফে ৮৯ লাখে পৌঁছেছিল, যা বর্তমানে স্বাভাবিক হয়ে ৫৫ লাখে নেমেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতীয় রিফাইনারিগুলো উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে সিলিন্ডারের ঘাটতি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। এছাড়া সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা কমাতে পিএনজি (PNG) সংযোগে জোর দেওয়া হচ্ছে; শুধুমাত্র মার্চ মাসেই সাড়ে তিন লাখ নতুন সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
কৃষকদের জন্য সারের বাম্পার স্টক
আসন্ন খরিফ মরশুমে চাষিদের সার নিয়ে কোনো চিন্তার কারণ নেই বলে জানিয়েছে সার মন্ত্রক। গত বছরের তুলনায় এবার মজুত ভাণ্ডার অনেক বেশি শক্তিশালী:
- ইউরিয়া: ৬২ লাখ টন (গতবারের চেয়ে ১০ লাখ টন বেশি)
- ডিএপি: ২৫ লাখ টন (প্রায় দ্বিগুণ মজুত)
- এনপিকে: ৫৬ লাখ টন
আন্তর্জাতিক কৌশল ও নজরদারি
রাশিয়া, মরক্কো এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত চুক্তির মাধ্যমে বিকল্প সমুদ্রপথে সার আনা নিশ্চিত করেছে ভারত। পাশাপাশি সারের কালোবাজারি রুখতে দেশের ৬৫২টি জেলায় ডিজিটাল নজরদারি শুরু হয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশের কোথাও তেল বা গ্যাসের আকাল নেই এবং হাসপাতাল ও হোটেলের মতো জরুরি ক্ষেত্রগুলোতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে জোগান বজায় রাখা হচ্ছে।