মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে কয়েকটি রাজ্যে হাজার টাকা ছাড়ালো রান্নার গ্যাসের দাম

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে ইরান যুদ্ধের অস্থির আবহে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে ভারতের একাধিক রাজ্যে রান্নার গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যার আশঙ্কায় দেশের অভ্যন্তরেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সম্প্রতি এক দফায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পর পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যের গ্রাহকরা এখন বাড়তি ব্যয়ের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
কলকাতায় বর্তমানে ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৯৩৯ টাকা থাকলেও দেশের অন্য কয়েকটি প্রান্তের চিত্র আরও ভয়াবহ। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে রান্নার গ্যাসের অগ্নিমূল্য সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশের মধ্যে এই মুহূর্তে রান্নার গ্যাসের দাম সবচেয়ে বেশি ত্রিপুরায়। সেখানে প্রতি সিলিন্ডারের জন্য গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে ১০৭৩.৫ টাকা, যা কলকাতার তুলনায় প্রায় ১৩৪ টাকা বেশি। ভৌগোলিক অবস্থান এবং পরিবহন খরচের কারণে এই বিস্তর ফারাক তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ত্রিপুরার পাশাপাশি সিকিম ও মিজোরামের পরিস্থিতিও সমান উদ্বেগজনক। সিকিমে রান্নার গ্যাসের বর্তমান বাজারমূল্য ১০৬৫.৫ টাকা এবং মিজোরামে তা ১০৬৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে মণিপুরেও রান্নার গ্যাসের জন্য গ্রাহকদের একই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। পাহাড়ি এই রাজ্যগুলিতে জীবনযাত্রার অন্যান্য খরচের সঙ্গে জ্বালানির এই আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেটে বড়সড় আঘাত হেনেছে।
শুধু উত্তর-পূর্ব ভারত নয়, বিহারের রাজধানী পাটনাতেও রান্নার গ্যাসের দাম হাজার টাকার গণ্ডি পার করে ১০০২.৫ টাকায় পৌঁছেছে। জ্বালানির এই লাগামহীন দাম বৃদ্ধির ফলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি বিকল্প জ্বালানির কথা ভাবতে বাধ্য হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা বজায় থাকলে আগামী দিনে অভ্যন্তরীণ বাজারে এলপিজির দাম আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ও ইজরায়েল সংঘাতের মতো ঘটনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলছে। যদি এই যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হয়, তবে আমদানিকৃত গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল ভারতে রান্নার গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আপাতত দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ তাকিয়ে আছেন সরকারি কোনো ভর্তুকি বা দাম কমানোর ঘোষণার দিকে, যা কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পারে তাদের পকেটে।