মধ্যবিত্তের পকেটে টান, বিস্কুট থেকে সাবান সবকিছুর দাম বাড়ছে আকাশছোঁয়া

বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব এবার সাধারণ মানুষের পকেটে পড়তে চলেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন বিস্কুট, সাবান, ভোজ্য তেল থেকে শুরু করে ঘরের রঙ পর্যন্ত সবকিছুই দামি হতে চলেছে। ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচের চাপে এফএমসিজি এবং গৃহস্থালি পণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি দাম বাড়ানোর পথে হাঁটছে।
ইতিমধ্যেই অনেক কো ম্পা নি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। বিশেষ করে ভোজ্য তেলের দাম লিটার প্রতি ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পাম অয়েলের দাম বাড়ায় বিস্কুট ও চানাচুর উৎপাদনকারী সংস্থা যেমন ব্রিটানিয়া, নেসলে এবং বিকাজির মতো বড় ব্র্যান্ডগুলো চলতি ত্রৈমাসিকেই দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। পাম অয়েল সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হওয়ায় হিন্দুস্তান ইউনিলিভার এবং গোদরেজের মতো সংস্থাগুলিও ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে।
খরচ সামাল দিতে কো ম্পা নিগুলো ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। জাইডাস ওয়েলনেস-এর শীর্ষ কর্তাদের মতে, দাম অপরিবর্তিত রেখে প্যাকেটের ওজন কমানো হতে পারে অথবা বড় প্যাকেটের ক্ষেত্রে সরাসরি দাম বাড়ানো হতে পারে। এলপিজি-র ওপর নির্ভরশীল অনেক প্যাকেটজাত খাদ্য উৎপাদনকারী সংস্থা বর্তমানে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে বাজারে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
রঙ শিল্পের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। রঙের কাঁচামালের প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল থেকে আসে। ফলে বার্জার পেইন্টস বা জেএসডব্লিউ-এর মতো সংস্থাগুলি আগেই দাম বাড়িয়েছে। দেশের বৃহত্তম রঙ প্রস্তুতকারী সংস্থা এশিয়ান পেইন্টস আগামী দিনে ৬ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়াতে পারে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচামালের অত্যধিক দামের কারণে সংস্থাগুলোর লাভের মার্জিন কমছে। এই আর্থিক সংকটের প্রভাব ২০২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে আরও প্রকট হবে। সব মিলিয়ে আমজনতার রান্নাঘর থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় সিঁদুরে মেঘ দেখছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।