মধ্য এশিয়ার বাণিজ্যিক করিডর: হিন্দুকুশ পেরিয়ে রেলপথে কি ঘুরে দাঁড়াবে পাকিস্তান?

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই বিকল্প বাণিজ্যিক পথের আশায় বুক বাঁধছে পাকিস্তান। মধ্য এশিয়ার দেশ উজ়বেকিস্তানের প্রস্তাবিত ‘ট্রান্স আফগান রেলওয়ে’ প্রকল্পে যুক্ত হয়ে নিজেদের কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগাতে চাইছে ইসলামাবাদ। স্থলবেষ্টিত উজ়বেকিস্তান তাদের পণ্য পরিবহণের জন্য রাশিয়া বা চিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি পাকিস্তানের করাচি বা গ্বদর বন্দরে পৌঁছাতে এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
প্রায় ৬৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথটি উজ়বেকিস্তানের টার্মেজ় থেকে শুরু হয়ে আফগানিস্তানের কাবুল হয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করবে। প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ৪৬০ কোটি ডলার ধরা হলেও বর্তমানে তা ৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই রেলপথটি বাস্তবায়িত হলে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর জন্য বিশ্ব বাণিজ্যের এক নতুন এবং সাশ্রয়ী প্রবেশদ্বার উন্মোচিত হবে, যা পাকিস্তানের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতির সঞ্চার করতে পারে।
তবে এই প্রকল্পের পথে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ আকাশচুম্বী। হিন্দুকুশ পর্বতমালার প্রায় ৩,৫০০ মিটার উচ্চতায় সুড়ঙ্গ ও সেতু নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল কাজ। এছাড়া আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত সংঘাত এবং চরমপন্থী কার্যকলাপ প্রকল্পের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে রাশিয়ার আগ্রহ থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এই বিশালাকার অবকাঠামো বাস্তবে রূপ পায় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।