মনোনয়ন থেকে কড়া নজরদারি! বাংলার ভোট যুদ্ধের শুরুতেই দিল্লির মেগা অ্যাকশন প্ল্যান

নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার প্রথম দিন থেকেই রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতীতে মনোনয়ন পর্বকে কেন্দ্র করে বাংলায় যে হিংসার ছবি দেখা গিয়েছিল, তা রুখতেই এবার এই অভূতপূর্ব রণকৌশল।
মনোনয়ন পর্বেই বজ্রআঁটুনি
গত নির্বাচনগুলোতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জোরপূর্বক মনোনয়ন প্রত্যাহারের অসংখ্য অভিযোগ সামনে এসেছিল। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার মনোনয়নের প্রথম দিন থেকেই ময়দানে নামছেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। বাংলা-সহ ৫টি রাজ্যের ভোট সামলাতে ইতিমধ্যেই ১৪৪৪ জন আইএএস (IAS), আইপিএস (IPS) এবং আইআরএস (IRS) আধিকারিককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিন স্তরের বিশেষ নজরদারি
কমিশন এই আধিকারিকদের দায়িত্বকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করেছে:
- আইপিএস আধিকারিক (পুলিশ পর্যবেক্ষক): এদের মূল কাজ হবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।
- আইএএস আধিকারিক (সাধারণ পর্যবেক্ষক): ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক নজরদারির দায়িত্ব সামলাবেন এরা।
- আইআরএস আধিকারিক (রাজস্ব পর্যবেক্ষক): নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা রুখতে কড়া নজর রাখবেন এরা।
বিরোধীদের অভিযোগে সিলমোহর?
মনোনয়ন পর্বে বাধা দেওয়ার বিষয়ে বিরোধী দলগুলো বারবার কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। সেই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েই দিল্লির এই বিশেষ পরিকল্পনা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কোনও পর্যায়েই কোনওরকম কারচুপি বা বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও তামিলনাড়ু, কেরালা, আসাম এবং পুদুচেরিতেও একই মডেলে কড়া নজরদারি চালানো হবে।