মমতার কেন্দ্রীয় বাহিনী বিরোধী মন্তব্যে কড়া নজর সুপ্রিম কোর্টের, প্রয়োজনে হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী আবহে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর চাপ বাড়াল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালতে এই সংক্রান্ত এক শুনানির চলাকালীন বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে আদালত প্রয়োজনে এই বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি রুখতে সর্বোচ্চ আদালতের এই হুঁশিয়ারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লাগাতার উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন। কমিশনের দাবি, এই ধরনের বক্তব্যের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং নিরাপত্তারক্ষীদের কাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে নির্বাচনী পরিবেশ আরও উত্তপ্ত ও কলুষিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা আদালতকে জানিয়েছে।
ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র আদালতের কাছে জমা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাদের অভিযোগ, বারংবার সতর্ক করা সত্ত্বেও প্রশাসনিক প্রধানের এই ধরনের আচরণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই মন্তব্যের জেরে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকায় কমিশন সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে এর আগেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছিল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রভাব খতিয়ে দেখে সেই রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই বর্তমান শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী তাদের আপত্তির কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন।
সুপ্রিম কোর্ট মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করে জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনোভাবেই তাদের মনোবল ভাঙা বা জনমানসে তাদের নিয়ে ক্ষোভ তৈরি করা কাম্য নয়। আদালত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
রাজ্যে অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা যখন চর্চায়, তখন শীর্ষ আদালতের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সব পক্ষকেই সংযত থাকার বার্তা দিচ্ছে বিশেষজ্ঞ মহল। পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়ে আদালত আর কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।