মমতার জয়েই কি শেষ হলো ধর্মতলার ধরনা? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর মুখ্যমন্ত্রীর ফেসবুক পোস্টে এল বড় ইঙ্গিত

মমতার জয়েই কি শেষ হলো ধর্মতলার ধরনা? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর মুখ্যমন্ত্রীর ফেসবুক পোস্টে এল বড় ইঙ্গিত

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বড়সড় জয়ের স্বস্তি নিয়ে টানা পাঁচ দিন পর ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের ধরনা মঞ্চ ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকায় ‘বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন’ বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় সরব হয়ে রাজপথের আন্দোলনে নেমেছিলেন তিনি। বুধবার সন্ধ্যায় শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণের পর এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ বলে অভিহিত করে ধরনা প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন তৃণমূল নেত্রী।

ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নাম বাদ দেওয়ার যে চক্রান্ত চলছিল, তার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে বড় সাফল্য এসেছে। সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে একটি বিশেষ অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তারা এই ট্রাইব্যুনালে সরাসরি আবেদন করার সুযোগ পাবেন। শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েই আপাতত রাজপথের আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

ধরনা তোলার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “যদি দণ্ড সহিতে হয় তবু মিথ্যাবাক্য নয়। জয় জয় সত্যের জয়।” তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে অভিযোগ করেন, এসআইআর-এর মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছিল। বাংলার একজন বৈধ ভোটারের নামও যাতে বাদ না পড়ে, তার জন্য প্রয়োজনে নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত নাম তোলার লড়াই চলবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী নাম না করে ‘ভ্যানিশ কুমার’ সম্বোধন করে দাবি করেন, জোরপূর্বক ভোটাধিকার হরণের যে চক্রান্ত চলছিল, তা বাংলার জনগণ রুখে দিয়েছে। দলীয় কর্মীদের প্রতি তাঁর নির্দেশ, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষকে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে সর্বতোভাবে সাহায্য করতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এই জয় কেবল তৃণমূল কংগ্রেসের নয়, বরং সমস্ত বঙ্গবাসীর সাংবিধানিক অধিকারের জয়। “বাংলা লড়াই করতে জানে,” এই বার্তার মাধ্যমেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজপথের লড়াই এবার আইনি ও প্রশাসনিক স্তরে আরও তীব্র হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *