মমতার প্রচারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মরিয়া বিজেপি ফের দ্বারস্থ নির্বাচন কমিশনের

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনি প্রচার রুখতে তৎপরতা বাড়াল ভারতীয় জনতা পার্টি। ভোটের ময়দানে তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্য ও কৌশল গেরুয়া শিবিরের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানিয়ে আরও একবার নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
কমিশনের দরজায় বারবার বিজেপি
নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট তিনবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কমিশনের কাছে নালিশ জানাল বিজেপি। রাজনৈতিক সংঘাতের এই ধারাবাহিকতা নিচের ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট হয়:
- ২৫ মার্চ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনি বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হন বিরোধী দলনেতা।
- ৩০ মার্চ: ভোটারদের উস্কানি ও ভয় দেখানোর অভিযোগে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে নালিশ জানান সুকান্ত মজুমদারসহ শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
- বুধবার: একই ইস্যুতে ফের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয় বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তৎপরতা
বুধবার দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে গিয়ে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানায় বিজেপির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। এই দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বীরেন্দ্র কুমার, অর্জুনরাম মেঘাওয়াল এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিং। তাদের মূল দাবি, তৃণমূল নেত্রীর প্রচারের ওপর অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে।
রাজনৈতিক লড়াইয়ের গতিপ্রকৃতি
বিজেপির এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের প্রচার কৌশলে তারা চাপে রয়েছে। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসংযোগ এবং বক্তব্য ভোটারদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট। বারবার কমিশনের দ্বারস্থ হওয়াকে তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখলেও, বিজেপি এটিকে নির্বাচনি স্বচ্ছতা বজায় রাখার লড়াই হিসেবে দাবি করছে।
প্রভাব ও বিশ্লেষণ
ভোটের মুখে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের প্রচার বন্ধ করার এই আবেদন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি কমিশন কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা নির্বাচনি সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। অন্যদিকে, বারবার নালিশ করার এই কৌশল ভোটারদের মনে নেতিবাচক নাকি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।