মমতার হেলিকপ্টারের সামনে ড্রোন উড়িয়ে গ্রেফতার ৩, চাঞ্চল্যকর দাবি ধৃতদের

মালদার সামসিতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টারের সামনে ড্রোন ওড়ানোর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে, যারা মূলত বিহারের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। গতকাল হরিশচন্দ্রপুরে তৃণমূলের নির্বাচনী সভায় যোগ দিয়েছিলেন ধৃত অঙ্কিতকুমার পাসোয়ান, শ্রীকান্ত মণ্ডল এবং নুর আখতার। ঘটনার সময় ড্রোনটি হেলিকপ্টারের অত্যন্ত কাছে চলে আসায় মুখ্যমন্ত্রী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পুলিশকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন। হেলিকপ্টারে ওঠার সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, “এভাবে ড্রোন ওড়ালে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। পুলিশের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং দায়ীদের চিহ্নিত করা।” ধৃতদের দাবি, তাঁরা তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেন বা প্রচারের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভালো ভিডিও ফুটেজ পাওয়ার উদ্দেশ্যেই তাঁরা ড্রোনটি উড়িয়েছিলেন বলে পুলিশের কাছে প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন। তবে তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে তাঁদের এই দাবির বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তার খাতিরে পুলিশ তৎক্ষণাৎ ভিড়ের মধ্যে থেকে অভিযুক্তদের আটক করে এবং পরে গ্রেফতার করে। সাম্প্রতিক অতীতে মুখ্যমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক গোলযোগ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল, যার ফলে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে এমনিতেই উদ্বেগ রয়েছে। গত ২৬ মার্চ প্রচার সেরে ফেরার সময় দুর্যোগের কবলে পড়ে তাঁর বিমানটি প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট আকাশে চক্কর কাটতে বাধ্য হয়েছিল। সেই স্মৃতি টাটকা থাকতেই এদিনের ড্রোন বিভ্রাট প্রশাসনিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
মালদা জেলা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ধৃতদের বয়ান খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে প্রচারের কথা বললেও, যথাযথ অনুমতি ছাড়া কেন ড্রোন ওড়ানো হলো এবং এর নেপথ্যে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বিধানসভা নির্বাচনের আবহে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় এমন নিরাপত্তা চ্যুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। সঠিক তথ্য ও নিরাপত্তার প্রোটোকল মেনে আগামীতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে পুলিশি তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।