মমতা বিজেপির পুরোনো সঙ্গী ওবেসির নিশানায় তৃণমূল নেত্রী

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনীতি। মুর্শিদাবাদের এক বিশাল জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগেছেন এআইএমআইএম (AIMIM) প্রধান আসাদুদ্দিন ওবেসি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট কাটয়া হওয়ার অভিযোগের পাল্টা জবাবে ওবেসি স্মরণ করিয়ে দেন যে, গুজরাট দাঙ্গার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অটল বিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। তাঁর মতে, যারা আগে বিজেপির হাত ধরেছিল, তারা এখন অন্যদের বিজেপি-ঘনিষ্ঠ বলার নৈতিক অধিকার রাখে না।
তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে ওবেসি বলেন, দীর্ঘকাল ধরে মুসলমানদের ভোট ব্যবহার করে ক্ষমতার অলিন্দে বসে আছে এই সরকার। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদীকে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেন, এদের কারোর ওপরই সাধারণ মানুষের ভরসা করা উচিত নয়। ওবেসির মতে, বর্তমান সরকারের অপশাসন এবং কেন্দ্রের ভয়ের রাজনীতি থেকে মুক্তি পেতে হলে সাধারণ মানুষকে বিকল্প পথ বেছে নিতে হবে। আসন্ন ২৩ তারিখের ভোটে জোড়াফুল শিবিরকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার ডাক দেন তিনি।
মুর্শিদাবাদের এই সভায় ওবেসির পাশে ছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত এই নেতাও মমতার সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র বিষোদগার করেন। হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার রাজ্যের মুসলিম সমাজকে কেবল প্রতারণা করেছে। চাকরি চুরি, গরু পাচার এবং কয়লা পাচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই সরকারকে উৎখাত করার আহ্বান জানান। দুই নেতার এই যৌথ আক্রমণ মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আসন্ন নির্বাচনে ওবেসি ও হুমায়ুন কবীরের এই জোট পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ওবেসি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা কারও কাছে মাথা নত করবেন না এবং নিজেদের অধিকার আদায়ে লড়াই চালিয়ে যাবেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ না হওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এবার সময় এসেছে তৃণমূলকে রাজনৈতিকভাবে ‘কোল্ড স্টোরেজে’ পাঠিয়ে দেওয়ার। ওবেসির এই এন্ট্রি রাজ্যে তৃণমূল, বিজেপি এবং বাম-কংগ্রেস জোটের বাইরে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দিতে পারে।