মরণোত্তর সাজে শেষ বিদায়: কিংবদন্তি স্মিতা পাতিলের অপূর্ণ ইচ্ছার করুণ কাহিনী

বলিউডের কালজয়ী অভিনেত্রী স্মিতা পাতিল ১৯৮৬ সালে মাত্র ৩১ বছর বয়সে সন্তান প্রসব-পরবর্তী জটিলতায় অকালে প্রয়াত হন। ‘আর্থ’ ও ‘অর্ধ সত্য’-র মতো চলচ্চিত্রে শক্তিশালী অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে অনন্য স্থান দখল করেছিলেন। দুই দশকেরও কম সময়ের ক্যারিয়ারে জাতীয় পুরস্কার ও পদ্মশ্রীতে ভূষিত এই অভিনেত্রীর মৃত্যু আজও চলচ্চিত্র প্রেমীদের মনে গভীর শোকের উদ্রেক করে।
সম্প্রতি স্মিতা পাতিলের ব্যক্তিগত মেকআপ শিল্পী দীপক সাওয়ান্তের একটি সাক্ষাৎকার সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সেখানে তিনি প্রকাশ করেছেন যে, স্মিতা পাতিল সর্বদা একজন বিবাহিত নারীর মতো ‘সুহাগন’ বেশে পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন। অভিনেত্রীর মৃত্যুর পর তাঁর সেই অন্তিম ইচ্ছা পূরণ করতে তাঁর মা মেকআপ কিট এগিয়ে দেন এবং দীপক অশ্রুসজল চোখে তাঁকে শেষবারের মতো সাজিয়ে তোলেন।
মুম্বই দূরদর্শনের সংবাদ পাঠিকা থেকে বড় পর্দার তারকা হয়ে ওঠা স্মিতার ব্যক্তিগত জীবনও ছিল আলোচনায় ঠাসা। অভিনেতা রাজ বাব্বরকে বিয়ের পর তাঁর জীবন বিতর্কের সম্মুখীন হলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। তাঁর প্রয়াণের পর ছেলে প্রতীক বব্বর মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে অভিনয় জগতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। স্মিতার সেই শেষ সাজ ও শাখা-সিঁদুর নিয়ে বিদায়ের আকাঙ্ক্ষা আজও তাঁর জীবনের এক বিষাদময় অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে।