মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় ও এক দীর্ঘ যন্ত্রণার অবসান

ভারতের বিচারব্যবস্থায় এক আবেগঘন ও সুদূরপ্রসারী অধ্যায় রচিত হলো। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় থাকা ৩৩ বছর বয়সী যুবক হরিশ রানার জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’-কে পুনরায় স্বীকৃতি দিয়েছে। বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারতে ‘অ্যাকটিভ ইউথানেশিয়া’ বা সরাসরি মৃত্যু ঘটানো বেআইনি হলেও, বিশেষ পরিস্থিতিতে ‘প্যাসিভ ইউথানেশিয়া’ বা কৃত্রিম জীবনদায়ী চিকিৎসা বন্ধ করা বৈধ।
২০১৩ সাল থেকে হরিশ রানা ‘পার্সিস্টেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট’-এ রয়েছেন। ন নল দিয়ে খাবার ও জল সরবরাহ করে তাঁকে এতদিন বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল। আদালতের মতে, এই পদ্ধতিটি আদতে একটি জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়া। যখন উন্নতির কোনো আশা থাকে না, তখন কেবল যান্ত্রিকভাবে জীবন দীর্ঘায়িত করা রোগীর ব্যক্তিগত মর্যাদার পরিপন্থী। রায়ের সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিচারপতি পারদিওয়ালা। তিনি হরিশের পরিবারের দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, যখন চিকিৎসা ব্যর্থ হয়, তখন প্রকৃতিকে তার নিজস্ব পথে চলতে দেওয়াই শ্রেয়।
এই রায়ের ফলে হরিশকে দিল্লির এইমস-এর প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে চিকিৎসকদের প্যানেল ধাপে ধাপে কৃত্রিম পুষ্টি সরবরাহ বন্ধ করার পরিকল্পনা করবেন, যাতে তিনি কোনো যন্ত্রণা ছাড়াই শেষ বিদায় নিতে পারেন। তবে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি—এই দুটি মেডিকেল বোর্ডের সম্মতি ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, জীবন রক্ষার সামান্যতম সম্ভাবনা থাকলে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। তবে যেখানে চিকিৎসা নিষ্ফল, সেখানে পরিবারের মানসিক ও আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মানবিক উপায়ে প্যালিয়েটিভ কেয়ারের মাধ্যমে বিদায়ের পথ প্রশস্ত করা যেতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলিকে বিশেষ নির্দেশিকা জারির আহ্বান জানিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।