মহাকাশে নতুন ইতিহাস, নাসার আর্টেমিস ২ মিশনের সফল উৎক্ষেপণ ৫০ বছর পর চাঁদে ফিরছে মানুষ

মহাকাশ বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উৎক্ষিপ্ত হলো নাসার ‘আর্টেমিস ২’ মিশন। ভারতীয় সময় অনুযায়ী ২ এপ্রিল শক্তিশালী স্পেস লঞ্চ সিস্টেম বা এসএলএস রকেটের মাধ্যমে চারজন অভিজ্ঞ মহাকাশচারীকে নিয়ে চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছে ওরিয়ন ক্যাপসুল। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে কেনেডি স্পেস সেন্টারে ভিড় করেছিলেন হাজার হাজার মানুষ।
এই মিশনে অংশ নিয়েছেন তিনজন মার্কিন এবং একজন কানাডীয় মহাকাশচারী। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন রিড ওয়াইসম্যান এবং পাইলট হিসেবে রয়েছেন ভিক্টর গ্লোভার। এছাড়া ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী হিসেবে এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চন্দ্র অভিযানে সামিল হয়ে বিশ্বজুড়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। এই মিশনটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সমান সুযোগের এক শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে।
মোট ১০ দিনের এই অভিযানে মহাকাশচারীরা সরাসরি চাঁদের মাটিতে না নামলেও উপগ্রহটির পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,৪০০ কিলোমিটার দূর দিয়ে প্রদক্ষিণ করবেন। যাত্রার প্রথম ২৫ ঘণ্টা পৃথিবীর কক্ষপথে থেকে মহাকাশযানের লাইফ সাপোর্ট, নেভিগেশন এবং কমিউনিকেশন সিস্টেম পরীক্ষা করা হবে। এরপর তারা গভীর মহাকাশে প্রবেশ করবেন। দীর্ঘ ৫০ বছর পর এটিই প্রথম মানববাহী চন্দ্র মিশন, যা ভবিষ্যৎ মঙ্গল অভিযানের পথ প্রশস্ত করবে।
নাসার এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো চাঁদে স্থায়ী মানব বসতি স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা। এই যাত্রায় ওরিয়ন ক্যাপসুলের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পরীক্ষা করা হবে, যা ভবিষ্যতে মহাকাশচারীদের দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকার সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আর্টেমিস ২ কেবল একটি অভিযান নয়, বরং মানব সভ্যতার মহাকাশ জয়ের ইতিহাসে এক স্বর্ণালী অধ্যায়।