মহাকাশে মহাপ্ৰলয় থিয়া নামের সেই রহস্যময় গ্রহ কি গিলে ফেলেছিল পৃথিবী

প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে মহাকাশে ঘটেছিল এক প্রলয়ংকরী সংঘর্ষ। মঙ্গল গ্রহের আকৃতির একটি রহস্যময় গ্রহ, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘থিয়া’, সজোরে আঘাত করেছিল নবজাতক পৃথিবীকে। বিজ্ঞানীদের মতে, সেই ভয়াবহ সংঘর্ষের ফলে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষ থেকেই জন্ম হয়েছিল আমাদের চিরচেনা চাঁদের। সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এই সংঘর্ষ কেবল চাঁদ সৃষ্টিই করেনি, থিয়া গ্রহের একটি বড় অংশকে পৃথিবী নিজের ভেতরেই বিলীন করে নিয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, থিয়া ও পৃথিবীর এই সংঘাত পৃথিবীর বিবর্তনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চন্দ্রাভিযান থেকে সংগৃহীত পাথরের নমুনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চাঁদের মাটির সাথে পৃথিবীর মাটির রাসায়নিক উপাদানের আশ্চর্যজনক মিল রয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, চাঁদ বাইরের কোনো মহাজাগতিক বস্তু নয়, বরং পৃথিবীরই অংশ। এই তত্ত্বটি ‘জায়ান্ট ইমপ্যাক্ট হাইপোথিসিস’ নামে পরিচিত, যা বর্তমানে মহাকাশ বিজ্ঞানে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য।
চাঁদের অস্তিত্ব ছাড়া পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ প্রায় আসাম্ভব হতো। চাঁদ তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তির মাধ্যমে পৃথিবীকে নিজের অক্ষপথে স্থির রাখতে সাহায্য করে। যদি চাঁদ না থাকত, তবে পৃথিবীর জলবায়ু ও পরিবেশ অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে পড়ত। জার্মানির ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চাঁদের এই স্থিতিশীল প্রভাব না থাকলে পৃথিবীতে প্রাণ ধারণের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হওয়া কঠিন হতো।
তাহলে সেই রহস্যময় গ্রহ ‘থিয়া’ এখন কোথায়? ২০২৩ সালের একটি চাঞ্চল্যকর গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, থিয়া পৃথিবীর ভেতরেই লুকিয়ে আছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, সংঘর্ষের পর থিয়ার প্রায় ১০ শতাংশ ভর পৃথিবীর গভীর স্তরে মিশে যায়। পৃথিবীর ম্যান্টলের গভীরে থাকা বিশেষ কিছু ঘন অঞ্চল আসলে সেই আদিম গ্রহেরই অবশিষ্টাংশ হতে পারে। অর্থাৎ, থিয়া সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়নি, বরং পৃথিবীর অংশ হয়ে টিকে আছে।
নাসার অ্যাপোলো মিশন থেকে শুরু করে আধুনিক কম্পিউটার মডেলিং—সবই এই সংঘর্ষের তত্ত্বকে জোরালো করছে। যদিও মহাকাশে থিয়ার কোনো বাহ্যিক অস্তিত্ব নেই, তবুও পৃথিবীর বুক চিরে পাওয়া রাসায়নিক প্রমাণগুলো এই মহাজাগতিক রহস্যের জট খুলছে। আজকের পূর্ণিমার চাঁদ আসলে সেই সুদূর অতীতের এক ভয়াবহ ধ্বংসলীলা এবং সৃষ্টির নীরব সাক্ষী হয়ে আকাশে বিরাজ করছে।