মহাকাশ অভিযানে কেন আজও পুরনো প্রযুক্তিতেই ভরসা রাখছে নাসা

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা বর্তমানে তাদের উচ্চাভিলাষী ‘আর্টেমিস ২’ মিশন নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। সম্প্রতি ৫৩ বছর পর কোনো মানুষ হিসেবে এই মিশনের নভোচারীরা চাঁদের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে এক অনন্য নজির গড়েছেন। তবে এই অত্যাধুনিক অভিযানের সাফল্যের মাঝেও একটি বিষয় অনেককেই অবাক করছে। আর তা হলো, প্রযুক্তির শীর্ষে থাকা এই সংস্থাটি কেন এখনও কিছু পুরনো হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার ব্যবহার করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্টেমিস মিশনের জন্য নাসা এমন অনেক ডিভাইস নির্বাচন করেছে যা আগে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি বর্তমান যুগে দাঁড়িয়েও অনেক ক্ষেত্রে পুরনো উইন্ডোজ ট্যাবলেট বা ডিভাইসের ওপর নির্ভর করতে দেখা যাচ্ছে বিজ্ঞানীদের। বিশ্বের অন্যতম সম্পদশালী এবং উন্নত গবেষণা সংস্থা কেন নতুন প্রযুক্তির বদলে পুরনো মডেলে আটকে আছে, তা নিয়ে কৌতূহল থাকা স্বাভাবিক।
নাসার স্পেসফ্লাইট বিশেষজ্ঞ জেসন হাট এই রহস্যের সমাধান করেছেন। তিনি জানান, এর মূল কারণ হলো নির্ভরযোগ্যতা, বিপুল খরচ এবং দীর্ঘমেয়াদী টেস্টিং প্রক্রিয়া। মহাকাশে ব্যবহৃত প্রতিটি ছোট যন্ত্রাংশকে চরম প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার পরীক্ষা দিতে হয়। একটি নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যার অনুমোদন পেতে বছরের পর বছর সময় এবং প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। একবার কোনো ডিভাইস নির্ভরযোগ্য প্রমাণিত হলে নাসা দীর্ঘ সময় সেটি পরিবর্তন করতে চায় না।
অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো মিশন পরিকল্পনার দীর্ঘ সময়সীমা। নাসার যেকোনো বড় অভিযানের পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি শুরু হয় উৎক্ষেপণের অনেক বছর আগে। সেই সময়ে যা লেটেস্ট প্রযুক্তি থাকে, নাসা তা নিয়েই পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রস্তুতির কাজ শুরু করে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে চলা এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার শেষে যখন মিশনটি বাস্তবে রূপ পায়, ততদিনে পৃথিবী সাধারণ প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে যায় এবং ওই ডিভাইসগুলো পুরনো হয়ে পড়ে।
মূলত মহাকাশ বিজ্ঞানে চমকপ্রদ নতুনত্বের চেয়েও স্থিরতা ও নিরাপত্তার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সামান্য কারিগরি ত্রুটিও কোটি কোটি টাকার প্রজেক্ট এবং নভোচারীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাই একদম নতুন এবং অপরীক্ষিত প্রযুক্তির চেয়ে কয়েক দশকের পুরনো কিন্তু পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। নাসা বিশ্বাস করে, মহাকাশ গবেষণায় গতির চেয়ে নির্ভুল কর্মক্ষমতাই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।