মহাকাশ থেকে ধরা দিল নীল গ্রহের অপূর্ব রূপ, আর্টেমিস ২ মহাকাশচারীদের ক্যামেরায় বন্দি পৃথিবী

চাঁদের দেশে পাড়ি জমানোর পথে মহাকাশ থেকে পৃথিবীর এক মোহময়ী দৃশ্য তুলে ধরলেন নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের মহাকাশচারীরা। প্রায় ৫০ বছর পর মানুষকে ফের চাঁদের কক্ষপথে নিয়ে যাওয়ার এই ঐতিহাসিক অভিযানে পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাওয়ার সময় নীল গ্রহের যে ছবি ধরা পড়েছে, তা দেখে রীতিমতো অভিভূত নেটপাড়া। নাসা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে শুক্রবার এই অভিযানের প্রথম ছবিগুলি প্রকাশ্যে এনেছে।
মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে মহাকাশ থেকে পৃথিবীর সেই চিরচেনা অথচ অনন্য ঔজ্জ্বল্য। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে মহাকাশযানের জানলা দিয়ে পৃথিবীর বাঁকানো দিগন্তরেখা, অন্যটিতে ফুটে উঠেছে নীল জলরাশি, সাদা মেঘের ভেলা এবং উত্তর মেরুর সবুজ অরোরা বা মেরুজ্যোতির বিচ্ছুরণ। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও মহাকাশ থেকে পৃথিবীর এই অটুট সৌন্দর্য দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন মিশনের চার সদস্য।
নাসার কর্মকর্তা লাকীশা হকিন্স জানিয়েছেন, বর্তমানে মহাকাশচারীরা পৃথিবী থেকে ১.৮ লক্ষ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছেন। মহাকাশযানের জানলা দিয়ে দেখা যাওয়া ওই ছবিতে এই মুহূর্তে চার অভিযাত্রী ছাড়া গোটা মানবসভ্যতা অবস্থান করছে। মহাকাশযানটি এখন দ্রুতগতিতে চাঁদের দিকে এগিয়ে চলেছে এবং সব ঠিক থাকলে আগামী সোমবারের মধ্যে সেটি চাঁদের নিকটবর্তী হবে।
এই ঐতিহাসিক মিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো চার মহাকাশচারীকে নিয়ে ওরিয়ন ক্যাপসুলের মাধ্যমে চাঁদের চারিদিকে ঘুরে আসা। মিশন পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা চাঁদের মাটিতে নামবেন না বরং একটি ইউ-টার্ন নিয়ে সরাসরি পৃথিবীর দিকে ফিরে আসবেন। কমান্ডার ওয়াইজম্যান এক সাক্ষাৎকারে জানান, যখন মহাকাশযানের জানলা দিয়ে পুরো পৃথিবীটা তাঁদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তখন তাঁরা এতটাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন যে বেশ কিছুক্ষণ কারোর মুখে কোনো কথা ছিল না।
বর্তমানে চাঁদে পৌঁছাতে তাঁদের আরও প্রায় ২.৪ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হবে। তিন মার্কিন ও এক কানাডিয়ান মহাকাশচারীর এই সফর সফল হলে তা ভবিষ্যতের মানব অভিযানের জন্য নতুন পথ প্রশস্ত করবে। নাসার মতে, ১৯৭৭ সাল থেকে সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেলেও মহাকাশ থেকে পৃথিবীর সেই মায়াবী রূপ এখনও আগের মতোই উজ্জ্বল ও অমলিন রয়েছে।