মহাভারতের যুদ্ধের মতো দীর্ঘ ১০ বছরের দাম্পত্য বিবাদ শেষ হলো সুপ্রিম কোর্টের রায়ে

মহাভারতের যুদ্ধের মতো দীর্ঘ ১০ বছরের দাম্পত্য বিবাদ শেষ হলো সুপ্রিম কোর্টের রায়ে

একটি দীর্ঘ ও তিক্ত আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে সুপ্রিম কোর্ট অবশেষে এক দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন মঞ্জুর করেছে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলা এই বিবাদকে বিচারপতিরা ‘মহাভারতের যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শীর্ষ আদালত সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দীর্ঘ বিবাদ ও মামলার পাহাড়ের নিচে এই বিবাহটি কার্যত বর্তমানে ‘মৃত’ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও জটিলতা

২০১০ সালে এই দম্পতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং পরবর্তীকালে তাঁরা দুই পুত্রসন্তানের বাবা-মা হন। তবে সম্পর্কের অবনতি ঘটায় ২০১৬ সাল থেকে তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেন এবং বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের হয়। এই এক দশকে তাঁদের বিবাদ এতটাই চরমে পৌঁছায় যে, স্বামী নিজের স্ত্রী, শ্বশুরবাড়ির সদস্য এবং স্ত্রীর আইনজীবীদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন আদালতে প্রায় ৮০টিরও বেশি মামলা দায়ের করেন।

বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ও আইনি অপব্যবহার

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রমনাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে স্বামীর আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন। আদালত জানিয়েছে:

  • স্বামী একজন পেশাদার আইনজীবী হওয়া সত্ত্বেও নিজের আইনি জ্ঞান ব্যবহার করে অসংখ্য প্রতিহিংসামূলক মামলা দায়ের করেছেন।
  • আর্থিক দায়বদ্ধতা এড়াতে তিনি বারবার বিভিন্ন সংস্থার ডিরেক্টর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
  • পারিবারিক আদালত ও হাইকোর্টের নির্দেশ বারবার অমান্য করার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ভরণপোষণ ও সন্তানের হেফাজত

আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, স্ত্রী উচ্চশিক্ষিত বা কর্মক্ষম হলেও স্বামী তাঁর এবং সন্তানদের ভরণপোষণের দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারেন না। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত নিম্নলিখিত নির্দেশগুলো প্রদান করেছে:

  • স্বামীকে আগামী এক বছরের মধ্যে ভরণপোষণ বাবদ স্ত্রীকে এককালীন ৫ কোটি টাকা দিতে হবে।
  • দুই পুত্রসন্তানের হেফাজত বা কাস্টাডি থাকবে মায়ের কাছে।
  • বাবা হিসেবে স্বামী তাঁর সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার আইনি অধিকার পাবেন।
  • বিবাহবিচ্ছেদের পর স্ত্রী তাঁর শ্বশুরের ফ্ল্যাটটি ছেড়ে দেবেন।

সম্পর্কের তিক্ততা ও পাল্টা অভিযোগ

স্বামী পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, তিনি মানসিক নির্যাতনের শিকার এবং স্ত্রী তাঁকে সন্তানদের থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। তিনি এর আগে ৪৫ লক্ষ টাকা প্রদান করেছেন বলেও জানান। তবে আদালত মনে করেছে, স্বামীর দায়ের করা অসংখ্য মামলা মূলত স্ত্রীকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ছিল, যা সুস্থ দাম্পত্যের সমস্ত সম্ভাবনা নষ্ট করে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *