মাটির কত নিচে তৈরি হয় তেল-গ্যাস? জানুন সেই রোমাঞ্চকর বৈজ্ঞানিক রহস্য!

মাটির কত নিচে তৈরি হয় তেল-গ্যাস? জানুন সেই রোমাঞ্চকর বৈজ্ঞানিক রহস্য!

প্রকৃতিতে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। ভূগর্ভস্থ তাপ, প্রচণ্ড চাপ এবং লাখ লাখ বছরের এক জটিল বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার ফসল এই অমূল্য সম্পদ। সম্প্রতি বিশ্ব রাজনীতিতে তেল ও গ্যাসের সংকট নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মাঝে এই প্রক্রিয়ার নেপথ্য কারণগুলো অনুসন্ধান করা জরুরি।

যেভাবে জন্ম নেয় জীবাশ্ম জ্বালানি

আজকের এই অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের উৎস হলো লাখ লাখ বছর আগে সমুদ্রে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জীব, শৈবাল এবং উদ্ভিদ। এসব জীব মারা যাওয়ার পর সমুদ্রের তলদেশে জমা হয় এবং সময়ের সাথে সাথে মাটি ও বালুর স্তরের নিচে চাপা পড়ে। অক্সিজেনের অভাব এবং ওপরের স্তরের প্রবল চাপে এই জৈব পদার্থগুলো পচে না গিয়ে সংরক্ষিত থাকে। কালক্রমে এই জৈব পদার্থগুলোই হাইড্রোকার্বনে রূপান্তরিত হয়।

তাপমাত্রা ও অয়েল উইন্ডোর গুরুত্ব

হাইড্রোকার্বন থেকে তেল তৈরির জন্য একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়, যাকে বিজ্ঞানীরা বলেন ‘অয়েল উইন্ডো’।

  • তেল তৈরির আদর্শ তাপমাত্রা: সাধারণত ৬০° সেলসিয়াস থেকে ১২০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা তেল তৈরির জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এই সীমার মধ্যে জৈব পদার্থগুলো তরল হাইড্রোকার্বন বা অপরিশোধিত তেলে পরিণত হয়।
  • সীমার নিচে থাকলে: যদি তাপমাত্রা এই সীমার কম থাকে, তবে তেল তৈরির প্রক্রিয়াটি আসাম্পূর্ণ থেকে যায়।

তেল থেকে গ্যাস তৈরির প্রক্রিয়া

যখন মাটির গভীরতা আরও বাড়ে এবং তাপমাত্রা ১২০° সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, তখন শুরু হয় গ্যাস তৈরির প্রক্রিয়া। এই উচ্চ তাপে তেলের ভারী অণুগুলো ভেঙে হালকা হাইড্রোকার্বনে পরিণত হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘থার্মাল ক্র্যাকিং’। মূলত তেলের পরবর্তী ধাপই হলো প্রাকৃতিক গ্যাস।

ভূগর্ভে যেভাবে সজ্জিত থাকে সম্পদ

গ্যাস তেলের চেয়ে হালকা হওয়ায় এটি সবসময় ওপরের দিকে ওঠার চেষ্টা করে। ফলে ভূগর্ভস্থ পাথরের স্তরে একটি নির্দিষ্ট বিন্যাস তৈরি হয়:

  • সবার ওপরে: প্রাকৃতিক গ্যাস।
  • মাঝখানের স্তরে: অপরিশোধিত তেল।
  • সবার নিচে: প্রায়ই জলর একটি স্তর থাকে।

মাটির নিচে থাকা বিশেষ ধরনের শিলা বা ‘ক্যাপ রক’ এই গ্যাস ও তেলকে ওপরে বেরিয়ে যেতে বাধা দেয় এবং প্রাকৃতিকভাবে একটি ভাণ্ডার তৈরি করে।

কেন ড্রিলিংয়ের সময় দুটিই একসাথে পাওয়া যায়?

যখন কোনো কো ম্পা নি তেল বা গ্যাসের জন্য ড্রিলিং শুরু করে, তখন তারা সরাসরি সেই প্রাকৃতিক ভাণ্ডারে পৌঁছায়। যেহেতু গ্যাস তেলের ঠিক ওপরেই অবস্থান করে, তাই ড্রিলিংয়ের সময় প্রায়ই এই দুটি সম্পদ একসাথে বেরিয়ে আসে। কোনো এলাকা ‘অয়েল ফিল্ড’ হবে নাকি ‘গ্যাস ফিল্ড’, তা মূলত নির্ভর করে ওই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক তাপমাত্রার ইতিহাসের ওপর।

একঝলকে

  • মূল উৎস: সমুদ্রের তলদেশে চাপা পড়া প্রাচীন ক্ষুদ্র জীব ও উদ্ভিদ।
  • অয়েল উইন্ডো: ৬০° থেকে ১২০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তেল তৈরি হয়।
  • গ্যাস গঠন: ১২০° সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় তেলের অণু ভেঙে গ্যাস তৈরি হয়।
  • অবস্থান: ওপরে গ্যাস, মাঝে তেল এবং নিচে জল জমা থাকে।
  • সময়কাল: এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক লক্ষ বছর সময় লাগে।⏹

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *