মাত্র ৫ টাকা দিতে গিয়েই সর্বনাশ! গুগল থেকে পাওয়া এক ফোন নম্বরেই গায়েব ১.৬৩ লক্ষ টাকা

দেরাদুনের বসন্ত বিহারের বাসিন্দা অরবিন্দ কৃষ্ণ গুপ্তার পরিবার কল্পনাও করতে পারেনি যে, স্রেফ ৫ টাকার একটি অনলাইন লেনদেন তাদের জীবনের সঞ্চয় এক নিমেষে কেড়ে নেবে। জলিগ্র্যান্ট বিমানবন্দরে ফেলে আসা ব্যাগ ফিরে পাওয়ার আশায় গুগল থেকে নম্বর খুঁজে ফোন করাই কাল হলো এই পরিবারের জন্য। ১৭ ফেব্রুয়ারির সেই ঘটনা এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক বিরাট সতর্কবার্তা।
যেভাবে ছড়ানো হয়েছিল প্রতারণার জাল
শালিনী গুপ্তা বিমানবন্দরে নিজের প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস ফেলে এসেছিলেন। সেই ব্যাগ ফেরত পাওয়ার উপায় খুঁজতে তিনি গুগলে বিমানবন্দরের হেল্পলাইন নম্বর সার্চ করেন। সেখানে দেওয়া একটি ভুয়ো নম্বরে ফোন করতেই ওপাশ থেকে এক ব্যক্তি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে কথা বলে। প্রতারক তাকে আশ্বস্ত করে বলে, “ভয় পাবেন না, মাত্র ৫ টাকা ডেলিভারি চার্জ দিলেই আপনার ব্যাগ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে।”
৫ টাকার ফাঁদ এবং কোটি টাকার ক্ষতি
সরল বিশ্বাসে শালিনী দেবী নিজের ইউপিআই (UPI) অ্যাপ ব্যবহার করে ৫ টাকা পাঠান। কিন্তু প্রতারক জানায়, টাকা পৌঁছায়নি এবং অন্য একটি ফোন থেকে পুনরায় চেষ্টা করতে বলে। এরপর শালিনী দেবী তার স্বামী অরবিন্দবাবুর ফোন থেকে ফের ৫ টাকা পাঠান। আর ঠিক এই মুহূর্তেই ঘটে যায় বিপর্যয়। দ্বিতীয়বার লেনদেন সম্পন্ন হতেই দম্পতির দুটি ফোনই হ্যাক হয়ে যায়। তাদের ফোনের সব ব্যাঙ্কিং অ্যাপ অদৃশ্য হয়ে যেতে শুরু করে। সকাল ৭টা ২০ মিনিট নাগাদ মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে অরবিন্দবাবুর এক্সিস ব্যাঙ্ক থেকে ৯৯ হাজার টাকা, ইন্ডাসইন্ড ব্যাঙ্ক থেকে ৮ হাজার টাকা এবং শালিনী দেবীর অ্যাকাউন্ট থেকে ৫৬ হাজার টাকা— সব মিলিয়ে মোট ১ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় সাইবার অপরাধীরা।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
এই ঘটনার পর ২০ ফেব্রুয়ারি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে প্রতারকরা গুগল ম্যাপ এবং সার্চ ইঞ্জিনে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, বিমানবন্দর বা ব্যাঙ্কের নাম করে ভুয়ো নম্বর নথিভুক্ত করে রাখে। সাধারণ মানুষ বিপদে পড়ে সেই নম্বরে ফোন করলেই তাদের ফাঁদে পা দেন। সামান্য টাকা লেনদেনের অছিলায় তারা গ্রাহকের ফোনের অ্যাক্সেস নিয়ে নেয় এবং নিমেষে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দেয়।
সুরক্ষিত থাকতে যা করবেন
- গুগলে পাওয়া যেকোনো হেল্পলাইন নম্বর অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না।
- সর্বদা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন।
- অপরিচিত কারোর নির্দেশে সামান্য টাকার বিনিময়েও কোনো লিঙ্কে ক্লিক বা ইউপিআই পিন দেবেন না।
- ফোনে কোনো সন্দেহজনক অ্যাপ ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকুন।
সতর্কতাই এখন সাইবার অপরাধ থেকে বাঁচার একমাত্র পথ। সামান্য ৫ টাকার প্রলোভন যে দেড় লক্ষ টাকার বেশি ক্ষতি করতে পারে, দেরাদুনের এই ঘটনা তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ।