মাদার টেরেসার সঙ্গী থেকে স্বনির্ভরতার দিশারি, নিভৃতে বিদায় নিলেন এক অনন্য সমাজসেবী
বিখ্যাত আইনজীবী পরিবারের পুত্রবধূ, সফল সন্তানদের জননী— শুধু এই পরিচয়েই কি তাঁকে সীমাবদ্ধ রাখা যায়? উত্তর কলকাতার বনেদি পরিবারে জন্ম নেওয়া নন্দিনী মিত্র ছিলেন প্রচারবিমুখ এক কর্মযোগী। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ৮৪ বছর বয়সে জীবনাবসান হয়েছে এই মহীয়সীর। বিশিষ্ট আইনজীবী সঞ্জয় বসুর স্মৃতিচারণায় উঠে এল এক অসামান্য লড়াকু ব্যক্তিত্বের গল্প।
আভিজাত্য ও সেবার মেলবন্ধন
প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র কেশবচন্দ্র বসুর কন্যা নন্দিনী দেবী ছোট থেকেই ছিলেন মেধাবী। লোরেটো হাউসের ছাত্রী থেকে প্রখ্যাত ব্যারিস্টার অনিন্দ্য মিত্রের ঘরণী হওয়ার সফরে তিনি কখনও নিজের সত্তাকে হারিয়ে ফেলেননি। মিশনারিজ অফ চ্যারিটির সঙ্গে যুক্ত থেকে মাদার টেরেসার সান্নিধ্যে কাজ করেছেন দীর্ঘ সময়।
‘আনন্দন’ এবং স্বনির্ভরতার স্বপ্ন
১৯৯৯ সালে সমমনোভাবাপন্ন কয়েকজনকে নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছিলেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘আনন্দন’। সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুদের শুধু পড়াশোনাই নয়, কম্পিউটার শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন তিনি। আজ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার শাখা ছড়িয়ে পড়েছে।
ব্যক্তিগত ক্ষতি ও স্মৃতিচারণা
সঞ্জয় বসু জানান, “অনিন্দ্যবাবুর চেম্বার জুনিয়র হিসেবে কাজ করার সময় থেকেই ওঁর সঙ্গে এক আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। নিজের ছেলের মতো আমাদের আগলে রাখতেন।” মজার বিষয় হলো, আইনজীবীদের কাজ দেখেই কম্পিউটারে হাতেখড়ি হয়েছিল নন্দিনী দেবীর।
গত ১৩-১৪ বছর ধরে অ্যালঝাইমার্সে আক্রান্ত থাকলেও নিজের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি তিনি। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ আইনি মহল থেকে শুরু করে অসংখ্য গুণমুগ্ধ। এক স্মিত হাসির আড়ালে সমাজবদলের যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তা আজও বেঁচে আছে তাঁর কর্মের মাধ্যমে।