মাদ্রাসায় কি সত্যিই জঙ্গি তৈরি হয়? নীতীশ রাণেকে সপাটে জবাব দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন আবু আজমি

মাদ্রাসায় কি সত্যিই জঙ্গি তৈরি হয়? নীতীশ রাণেকে সপাটে জবাব দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন আবু আজমি

মহারাষ্ট্রের মালেগাঁও পুরসভার বিদ্যুৎ বিভাগে কর্মীদের নমাজ পড়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি বিধায়ক তথা মন্ত্রী নীতীশ রাণে এবং সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক আবু আজমির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ। একদিকে রাণে যখন মাদ্রাসাকে ‘সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্র’ বলে তোপ দেগেছেন, তখন পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে আজমি জানিয়েছেন, সাহস থাকলে সরকার মাদ্রাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে তদন্ত করে দেখুক।

ঠিক কী ঘটেছিল?

মালেগাঁও পুরসভার অফিসের ভেতরেই কয়েকজন কর্মীর নমাজ পড়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করে নীতীশ রাণে দাবি করেন, এটি একটি হিন্দু রাষ্ট্র এবং সরকারি অফিসের ভেতর কোনোভাবেই নমাজ বরদাস্ত করা হবে না। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি; নমাজ পাঠকারী কর্মীদের ‘জিহাদি’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি তিনি অভিযোগ তোলেন যে, মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের কট্টরপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের পাঠ দেওয়া হচ্ছে।

আবু আজমির পাল্টা চ্যালেঞ্জ

নীতীশ রাণের এই বিতর্কিত মন্তব্যের পর পাল্টা গর্জে ওঠেন সমাজবাদী পার্টির বর্ষীয়ান নেতা আবু আজমি। রাণের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “দেশের কোনো মাদ্রাসাতেই জঙ্গি কার্যকলাপ চলে না। আপনাদের যদি এতই সন্দেহ থাকে, তবে প্রতিটি মাদ্রাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে দিন। সেখানে থেকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালান, কিছুই পাবেন না।”

আজমির দাবি, নীতীশ রাণে শুধুমাত্র সমাজে ঘৃণা ছড়ানোর জন্যই এই ধরনের মন্তব্য করছেন। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ভারতের সংবিধান অনুযায়ী যে কেউ যেকোনো জায়গায় প্রার্থনা করার অধিকার রাখেন এবং এটি কারো ব্যক্তিগত অধিকারে হস্তক্ষেপ করার শামিল।

রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে

মহারাষ্ট্রের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এবং সংখ্যালঘু নেতাদের মধ্যে চাপানউতোর এখন চরমে। একদিকে রাণে যেখানে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি তুলছেন, অন্যদিকে আজমি বিষয়টিকে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা হিসেবেই দেখছেন। মালেগাঁওয়ের এই ভিডিও বিতর্ক এখন স্রেফ স্থানীয় স্তরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা মহারাষ্ট্রের আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *