মার্কিন আক্রমণ রুখতে মরিয়া ইরান, ১০ লক্ষ স্বেচ্ছাসেবী সেনার বিশাল বাহিনী প্রস্তুত

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে মার্কিন সামরিক হুমকির মুখে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে দেশটির যুবসমাজ। আয়াতোল্লা শাসনের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক প্রতিবাদ সরিয়ে রেখে এখন বহিঃশত্রুর মোকাবিলায় প্রাণ দিতে প্রস্তুত আমজনতা। স্থানীয় সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজের দাবি অনুযায়ী, ইরান রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস ও বাসিজ বাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছেন। যুদ্ধের প্রস্তুতির লক্ষ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ সেনার একটি বিশাল বাহিনী গঠন করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন বলে রয়টার্সের রিপোর্টে জানানো হয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে হোয়াইট হাউস। এই প্রেক্ষাপটে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা পা রাখলে এই ১০ লক্ষ সেনার বাহিনী তাদের জন্য পরিস্থিতি ‘নরক’ সদৃশ করে তুলবে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের উন্নত সামরিক পরিকাঠামো এবং বিশাল জনসংখ্যা মার্কিন স্থল অভিযানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি অনেক ভিন্ন। এছাড়া আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে লেবাননের হেজবুল্লা এবং ইয়েমেনের হাউথিরাও ইরানের পাশে দাঁড়াতে পারে। একসময়ে যে জনতা আয়াতোল্লা শাসনের বিরোধিতা করেছিল, জাতীয় সংকটের মুখে তারাই এখন সর্বোচ্চ নেতার অধীনে সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিচ্ছে।