মার্কিন দম্ভ চূর্ণ করে মোগাদিশুর স্মৃতি ফেরাল ইরান: ধ্বংস অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান

ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘মাজিদ সিস্টেম’-এর আঘাতে আমেরিকার দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ভূপতিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তেহরানের এই প্রত্যাঘাত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবিকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই ঘটনা ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর মার্কিন বাহিনীর জন্য সবথেকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও ইরানের এই দুঃসাহসিক অভিযান পেন্টাগনকে কার্যত হতবাক করে দিয়েছে।
বর্তমান এই সংঘাত ১৯৯৩ সালের সোমালিয়ার ‘ব্যাটেল অফ মোগাদিশু’-র স্মৃতি উসকে দিচ্ছে। সে সময় মোগাদিশুতে মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস ও সেনা নিহতের ঘটনা আমেরিকাকে সোমালিয়া ছাড়তে বাধ্য করেছিল। তিন দশক পর ইরানের মাটিতে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এবারও মার্কিন পাইলটদের উদ্ধার করতে গিয়ে ইরানি সেনার তীব্র প্রতিরোধের মুখে ফিরে আসতে হয়েছে দুটি ব্ল্যাক হক কপ্টারকে, যা মার্কিন আভিজাত্যে চরম আঘাত।
ইরানের হামলায় একটি এফ-১৫ই এবং একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি একজন পাইলট নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাথমিক সংবাদ অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানে যাওয়া একটি হেলিকপ্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শত্রুর সমস্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের যে দাবি ট্রাম্প করেছিলেন, তা এখন প্রশ্নের মুখে। মধ্যপ্রাচ্যের এই রণক্ষেত্রে নিজেদের হারানো সম্মান পুনরুদ্ধার করতে এবং নিখোঁজ সেনাকে ফিরিয়ে আনতে ওয়াশিংটন এখন কতটা মরিয়া হয়ে ওঠে, সেদিকেই নজর বিশ্ব কূটনীতির।