মার্কিন বাজারে পেটেন্টেড ওষুধের ওপর ট্রাম্পের ১০০ শতাংশ ট্যারিফ আরোপ, ভারতের ওপর প্রভাব কেমন

আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সাম্প্রতিক নির্বাহী আদেশ বিশ্বজুড়ে ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন আমদানিকৃত ব্র্যান্ডেড এবং পেটেন্টেড ওষুধের পাশাপাশি সেগুলোর সক্রিয় উপাদান বা এপিআই (API)-এর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। মূলত জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই নতুন আদেশের ফলে যেসব বিদেশি কো ম্পা নি পেটেন্টেড ওষুধের মাধ্যমে মার্কিন বাজারে আধিপত্য বিস্তার করছে, তারা সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ কিছু ছাড়ের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। যেসব কো ম্পা নি আমেরিকার সাথে ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ প্রাইসিং চুক্তিতে আসবে এবং সেখানে নিজেদের উৎপাদন কেন্দ্র বা কারখানা গড়ে তুলবে, তারা এই বিপুল পরিমাণ শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। ইতিমধ্যে ১৭টি বড় ওষুধ কো ম্পা নির সাথে এই সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হয়েছে।
যেসকল প্রতিষ্ঠান এখনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি কিন্তু আমেরিকায় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে, তাদের ওপর প্রাথমিকভাবে ২০ শতাংশ শুল্ক ধার্য হবে। আগামী চার বছরে ধাপে ধাপে তা বেড়ে ১০০ শতাংশে পৌঁছাবে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতে, মার্কিন বাজারে ব্যবহৃত প্রায় ৫৩ শতাংশ পেটেন্টেড ওষুধই বর্তমানে বিদেশে তৈরি হয়, যা যে কোনো বৈশ্বিক সংকটে সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। বিশেষ করে ক্যান্সার ও অটোইমিউন রোগের মতো জটিল ওষুধের ক্ষেত্রে এই নির্ভরতা কমাতে চাইছে ওয়াশিংটন।
ভারতের জন্য এই খবরটি মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জেনেরিক বা ব্র্যান্ডবিহীন ওষুধ এবং বায়োসিমিলার পণ্যগুলোকে এই মুহূর্তের জন্য শুল্কমুক্ত রাখা হয়েছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিকারক হওয়ায় দেশটির মূল রপ্তানি বাণিজ্য এখনই বড় কোনো সংকটে পড়ছে না। জেনেরিক ওষুধের ওপর সরাসরি ট্যারিফ না থাকায় স্বল্প মেয়াদে ভারতীয় ওষুধ শিল্পের বড় অংশ নিরাপদ থাকবে।
দীর্ঘমেয়াদে অবশ্য ভারতের জন্য বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডঃ রেড্ডিস ল্যাবরেটরিজ, সান ফার্মা বা বায়োকনের মতো প্রথম সারির ভারতীয় কো ম্পা নিগুলো এখন জেনেরিক ছাড়িয়ে পেটেন্টেড ওষুধের দিকে ঝুঁকছে। মার্কিন সরকারের নতুন শর্ত অনুযায়ী, এই কো ম্পা নিগুলোকে এখন আমেরিকায় বিপুল বিনিয়োগ অথবা মূল্যের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লড়াই করতে হবে। এছাড়া এক বছর পর জেনেরিক ওষুধের নীতিমালা পুনরায় পর্যালোচনার ইঙ্গিত আসায় ভবিষ্যতের সরবরাহ ব্যবস্থা অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।
সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের এই সংরক্ষণবাদী নীতি বৈশ্বিক ওষুধের সাপ্লাই চেইন বদলে দিতে পারে। পেটেন্টেড ওষুধের উচ্চমূল্য এবং স্থানীয় উৎপাদনের বাধ্যবাধকতা ভারতীয় ফার্মা খাতের বিনিয়োগ কৌশল পুনর্বিন্যাসের পথ প্রশস্ত করবে। ভারতের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো মার্কিন এই কঠোর নীতির সাথে কীভাবে মানিয়ে নেয় এবং বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।