মার্কিন হুঁশিয়ারি উড়িয়ে রণংদেহি তেহরান, ট্রাম্পের হিসেবে বড় ভুল দেখছে ইরান

মার্কিন হুঁশিয়ারি উড়িয়ে রণংদেহি তেহরান, ট্রাম্পের হিসেবে বড় ভুল দেখছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চরম উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ইরানের সামরিক শক্তি ও রণকৌশল সম্পর্কে ওয়াশিংটনের কাছে থাকা গোয়েন্দা তথ্য অত্যন্ত আসাম্পূর্ণ। আমেরিকার ‘প্রস্তরযুগ’ হুঁশিয়ারির পালটা দিয়ে ইরান দাবি করেছে যে, মার্কিন ও ইজরায়েলি সেনার জন্য আগামী দিনে আরও ধ্বংসাত্মক জবাব অপেক্ষা করছে। তেহরানের এই অনমনীয় মনোভাব যুদ্ধের আবহকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, মার্কিন সেনা খুব দ্রুত ইরান ত্যাগ করবে। বড়জোর দুই বা তিন সপ্তাহের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি ছিল, ইরানকে এমনভাবে আঘাত করা হবে যাতে তারা প্রস্তরযুগে ফিরে যায় এবং পুনরায় পারমাণবিক শক্তি অর্জনের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তবে এই প্রত্যাবর্তনের বার্তার আড়ালে যুদ্ধের তীব্রতা কমার কোনো লক্ষণ দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। ট্রাম্প আরও দাবি করেছিলেন যে, ইরান নিজেই নাকি যুদ্ধবিরতির আবেদন নিয়ে ওয়াশিংটনের দ্বারস্থ হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। তেহরানের সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ট্রাম্পের গোয়েন্দা বিভাগ ইরানের কৌশলগত সক্ষমতা সম্পর্কে কিছুই জানে না। ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির তত্ত্ব নাকচ করে দিয়ে সেনার শীর্ষ কর্তারা জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই আমেরিকার কাছে আবেদন করেনি তারা। বরং তাদের শক্তি সম্পর্কে আমেরিকার ধারণাকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব।

ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সঈদ মাজিদ মুসাভি সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের ভাবনাচিন্তা আসলে হলিউডি সিনেমার দ্বারা প্রভাবিত। মুসাভি কটাক্ষ করে বলেন, মার্কিন প্রশাসন তাদের সেনাকে কবরে পাঠিয়েছে, ইরানকে নয়। ৬ হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতাসম্পন্ন একটি দেশকে আমেরিকার ২৫০ বছরের ইতিহাস দিয়ে হুমকি দেওয়া যে বৃথা, সেই বার্তাই তিনি স্পষ্টভাবে দিয়েছেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের বাগযুদ্ধের দিকে, তখন লেবানন সীমান্তে ইজরায়েলি বাহিনীর বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। পালটা আঘাত হানছে হেজবোল্লা বাহিনীও। ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত থাকলেও বাস্তবের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরানের পালটা চ্যালেঞ্জের পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আগুন অদূর ভবিষ্যতে নিভবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দু-পক্ষের এই অনড় অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *