মার্কেট ক্র্যাশ না কি সুবর্ণ সুযোগ? যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কোথায় বিনিয়োগ করলে সুরক্ষিত থাকবে আপনার টাকা? জানুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ার বাজারে। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই দালাল স্ট্রিটে রক্তক্ষরণ অব্যাহত। তবে এই চরম অস্থিরতার মধ্যেও সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যখন আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করছেন, তখন ঘরোয়া ফান্ড হাউসগুলো এই মন্দাকেই বিনিয়োগের সেরা সুযোগ হিসেবে বেছে নিয়েছে।
শেয়ার বাজারে ধসের ভয়াবহ চিত্র
চলতি বছরের মার্চ মাসটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ছিল অত্যন্ত দুঃসহ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র মার্চ মাসেই বাজার থেকে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৫১ ট্রিলিয়ন টাকা মুছে গিয়েছে।
- সূচকের পতন: সেনসেক্স ও নিফটি সূচক গত এক মাসে প্রায় ১১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
- বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পলায়ন: বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) বাজার থেকে প্রায় ১.১১ লক্ষ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
- অস্থিতিশীলতা: গত কয়েক দিনের ব্যবধানেই বাজার থেকে কয়েক লক্ষ কোটি টাকা গায়েব হয়ে যাওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
মিউচুয়াল ফান্ডে আশার আলো
শেয়ার বাজারে যখন পতনের হাহাকার, তখন দেশীয় মিউচুয়াল ফান্ডগুলোতে বিনিয়োগের জোয়ার এসেছে। বিনিয়োগকারীদের একাংশ এখন সরাসরি শেয়ারে টাকা না রেখে মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে ‘সেফ গেম’ খেলতে চাইছেন। আনন্দ রাঠি ওয়েলথের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে মিউচুয়াল ফান্ড স্কিমগুলোতে প্রায় ৬০,০০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ এসেছে।
মন্দার বাজারে ফান্ড ম্যানেজারদের মাস্টারস্ট্রোক
বাজার যখন তলানিতে, তখন অভিজ্ঞ ফান্ড ম্যানেজাররা একে ‘সস্তা দরে’ শেয়ার কেনার সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
- বিপুল বিনিয়োগ: মার্চ মাসে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ৯০,০০০ কোটি টাকা বাজারে খাটিয়েছে।
- নগদ অর্থের ব্যবহার: নতুন আসা ৬০,০০০ কোটি টাকার পাশাপাশি ফান্ড ম্যানেজাররা তাদের হাতে থাকা জমানো নগদ অর্থ থেকেও প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।
- কৌশলগত অবস্থান: বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন বাজার ছাড়ছেন, তখন দেশীয় ফান্ডগুলোর এই বিপুল বিনিয়োগ বাজারকে সম্পূর্ণ ধসে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে বড় ভূমিকা নিচ্ছে।
এটি কি বিনিয়োগের সঠিক সময়
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের কারণে শেয়ারের দাম অনেকটা কমে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য এটি একটি আদর্শ সময় হতে পারে। ফান্ড ম্যানেজাররা মূলত ব্লু-চিপ এবং শক্তিশালী মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারগুলো বেছে নিচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে বাজার ঘুরে দাঁড়ালে বাম্পার রিটার্ন দিতে পারে। তবে মনে রাখা জরুরি, মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ বাজারগত ঝুঁকির অধীন, তাই যে কোনো সিদ্ধান্তে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
একঝলকে
- ক্ষতির পরিমাণ: মার্চ মাসে বাজার থেকে উধাও ৫১ ট্রিলিয়ন টাকা।
- সূচকের ওঠানামা: এক মাসে সেনসেক্স ও নিফটি পড়েছে ১১ শতাংশ।
- বিনিয়োগের জোয়ার: মিউচুয়াল ফান্ডে নতুন বিনিয়োগ এসেছে ৬০,০০০ কোটি টাকা।
- ফান্ড ম্যানেজারদের ভূমিকা: মন্দার বাজারে মোট ৯০,০০০ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছে দেশীয় ফান্ডগুলো।
- কারণ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা।