মার্চের তিন ঐতিহাসিক দিনে রাজপথে নামার ডাক শেখ হাসিনার

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ৭, ১৭ এবং ২৬ মার্চ দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে তিনি নেতাকর্মীদের গলি থেকে রাজপথ সর্বত্র সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর এবং টুঙ্গিপাড়ায় শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে ঐতিহাসিক দিনগুলো উদযাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি। গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এসব কর্মসূচি পালনে বাধা ও নেতাকর্মীদের হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মূলত ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন করতে চায়। শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও জাতীয় দিবস পালনে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক পরিপন্থী। বিশেষ করে জেলবন্দি বা বিচারাধীন ব্যক্তিরাও এই অধিকার ভোগ করেন। বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতার সঙ্গে জড়িত এই দিনগুলো পালনের মাধ্যমে বর্তমান প্রশাসনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টিই তাঁর মূল লক্ষ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ও বিএনপি এই কর্মসূচিগুলো কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বিএনপি সাধারণত জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক মনে করলেও, সাম্প্রতিক নির্বাচনে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়ী হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউনেস্কো স্বীকৃত ৭ মার্চের ভাষণ বা জাতীয় দিবস পালনে আওয়ামী লীগকে বাধা দিলে সরকারের ভাবমূর্তি সংকটে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।