মালদহকাণ্ডে রাজ্য পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা নির্বাচন কমিশনের, তদন্তভার গেল সিবিআইয়ের হাতে

মালদহকাণ্ডে রাজ্য পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা নির্বাচন কমিশনের, তদন্তভার গেল সিবিআইয়ের হাতে

মালদহে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট চরম বিশৃঙ্খলা ও বিচারকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর মালদহকাণ্ডের তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বৃহস্পতিবার রাজ্যের প্রশাসনিক ও পুলিশকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ মেনে নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ কমিশনের।

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে রাজ্যের মুখ্য সচিব, ডিজি এবং সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির পুলিশ সুপারদের উপস্থিতিতে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। মালদহের মানিকচকে গোলমালের ঘটনায় কেন প্রাথমিক স্তরে কোনও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তকে ভর্ৎসনা করেন তিনি। ঘটনার সময় মালদহের পুলিশ সুপার কেন অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি কেন, তা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে কমিশন। প্রশাসনের ঢিলেঢালা মনোভাবকে দায়ী করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা নিয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

মালদহের পাশাপাশি কলকাতার পরিস্থিতি নিয়েও লালবাজারের কমিশনার অজয় নন্দের কাছে জবাবদিহি চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়নকে কেন্দ্র করে অশান্তি এবং কলকাতায় সিইও দফতরের সামনে টানা বিক্ষোভের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আইপিএস অফিসারদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানান, শহরের স্পর্শকাতর এলাকায় জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাটা বড় ব্যর্থতা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনও শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কমিশন।

উল্লেখ্য, ভোটার তালিকায় অসঙ্গতির অভিযোগে বুধবার মালদহের মোথাবাড়ি ও সুজাপুর এলাকায় দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। সেই সময় সাত জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে ব্লক অফিসের ভেতরে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নজরে আসার পর তিনি রাজ্য প্রশাসনকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন। বিচারকদের নিরাপত্তা দিতে না পারা এবং বাসভবনের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রশাসনের চরম সমালোচনা করেছে শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, এই ঘটনার তদন্ত সিবিআই বা এনআইএ-র মতো কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে করাতে হবে। সেই প্রেক্ষিতেই কমিশন এদিন সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কার্যকর করে। একইসঙ্গে বিচারকদের পরিবারের নিরাপত্তা পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে আরও তৎপর হতে হবে বলে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। এখন সিবিআই তদন্তে এই ঘটনার পেছনের মূল ষড়যন্ত্রকারীরা ধরা পড়ে কি না, সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *