মালদহের বিলুপ্তপ্রায় ১৫০ প্রজাতির আম পুনরুজ্জীবনে বিশেষ উদ্যোগ

মালদহের বিলুপ্তপ্রায় ১৫০ প্রজাতির আম পুনরুজ্জীবনে বিশেষ উদ্যোগ

মালদহের আম মানেই কেবল হিমসাগর বা ফজলি নয়, এর গভীরে রয়েছে শত বছরের ইতিহাস ও বৈচিত্র্য। একসময় এই জেলায় দুধকোমল, আলতাপেটি, টিকিয়াপরী ও কুমড়োজালির মতো প্রায় ১৭০টি নিজস্ব প্রজাতির আম চাষ হতো। কিন্তু বাণিজ্যিক চাহিদা কম থাকা এবং ফলন কম হওয়ায় এসব ঐতিহ্যবাহী ‘খাউকি’ আম আজ বিলুপ্তির পথে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এসব আমের নাম ও স্বাদ প্রায় অজানা হয়ে গিয়েছে।

হারিয়ে যাওয়া এই আমগুলোকে ফিরিয়ে আনতে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা আইআইএসএইচ এবং রাজ্য উদ্যানপালন দপ্তর। ইতিমধ্যে উদ্ভিদ প্রজাতি ও কৃষক অধিকার সুরক্ষা আইনের আওতায় ৪০টি প্রজাতিকে নিবন্ধিত করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিতি বাড়াতে ‘অ্যাপেডা’-র সহায়তায় বাহরিনেও পাঠানো হয়েছে কিছু দুর্লভ নমুনা। মালদহের আমচাষি ও বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য হলো এই বিপন্ন সম্পদগুলোকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখা।

মূলত আমচাষিদের অধিক লাভজনক ও জনপ্রিয় প্রজাতির দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় আমবাগান কেটে বাণিজ্যিক প্লট তৈরি হওয়ায় হারিয়ে গিয়েছে দুষ্প্রাপ্য সব গাছ। তবে সরকারি ও বেসরকারি স্তরে বর্তমানে ১৫০টি লুপ্তপ্রায় প্রজাতিকে পুনরুজ্জীবিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। মালদহের নিজস্ব ঐতিহ্যের এই স্বাদ ও বৈচিত্র্য রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *