মালদহে অশান্তি ছড়াতে তৎপর বিজেপি, সরব তৃণমূল কংগ্রেস

মালদহে অশান্তি ছড়াতে তৎপর বিজেপি, সরব তৃণমূল কংগ্রেস

পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ চলাকালীন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাওয়ের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সরাসরি ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) এই অশান্তি সৃষ্টির জন্য দায়ী করা হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে জেলায় অস্থিরতা তৈরি করছে। ঘাসফুল শিবিরের সাংসদ কীর্তি আজাদ দাবি করেছেন যে, মালদহে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নেপথ্যে কেন্দ্রীয় মদতপুষ্ট সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কাজ করছে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মালদহের এই ঘটনাকে তৃণমূল জমানার নৈরাজ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। পালটা প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এবং ব্রাত্য বসু প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে জানিয়েছেন, রাজ্যে নারী সুরক্ষা নিয়ে বিজেপি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। ব্রাত্য বসু আরও অভিযোগ করেন যে, মোদী বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি বিদ্বেষ প্রচার করছেন। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি শাসিত রাজ্যে অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়ার ইতিহাস থাকলেও তারা বাংলায় অযৌক্তিকভাবে ভয় ও অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরির চেষ্টা করছে।

বিজেপির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার তৃণমূলের এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে জানান, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সমস্ত অন্যায়ের হিসাব নেওয়া হবে এবং বাংলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। কুচবিহারের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনবিন্যাসের পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি সন্দেশখালির মতো ঘটনা এবং অনুপ্রবেশ ইস্যু সামনে রেখে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের এই রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ এখন চরমে। যেখানে বিজেপি সুশাসন ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালাচ্ছে, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে বহিরাগত শক্তির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মালদহের এই ঘটনা এবং পরবর্তী চাপানউতোর আগামী নির্বাচনে ভোটারদের মনস্তত্ত্বে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। উভয় দলই এখন রাজ্যের জনগণের সমর্থন আদায়ে মরিয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *