মালদহে নির্বাচনী প্রচারে গঙ্গা-ফুলহারের ভাঙন: কেন্দ্রের ‘বঞ্চনা’ বনাম রাজ্যের ‘প্রচেষ্টা’ নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

মালদহে নির্বাচনী প্রচারে গঙ্গা-ফুলহারের ভাঙন: কেন্দ্রের ‘বঞ্চনা’ বনাম রাজ্যের ‘প্রচেষ্টা’ নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

মালদহের রতুয়া ১ ব্লকের মহানন্দাটোলা ও বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতে গঙ্গা ও ফুলহার নদীর ভাঙন আসন্ন নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত পাঁচ বছরে শয়ে শয়ে ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় ভিটেমাটি হারিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজ্য সরকার আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বালির বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা ও আংশিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করলেও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্থায়ী সমাধান বা পর্যাপ্ত আর্থিক বরাদ্দ মেলেনি। এই বঞ্চনাকে হাতিয়ার করেই তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনী ময়দানে কোমর বেঁধে নেমেছে।

তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কেন্দ্রীয় উদাসীনতার কারণেই ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমছে না। জেলা তৃণমূল মুখপাত্র শুভময় বসুর মতে, বিজেপি সরকার বরাদ্দ না দিয়ে ভোটের সময় নাটক করছে। অন্যদিকে, বিদায়ী বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের দীর্ঘ আমলের উন্নয়ন ও মানবিক উদ্যোগের ওপর ভরসা রাখছে শাসকদল। তবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও, কেন্দ্রের অসহযোগিতার বিষয়টিই প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে।

বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে বিজেপি প্রার্থী অভিষেক সিঙ্ঘানিয়া তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনকালকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর দাবি, তিন দশকে বিধায়ক নদী ভাঙন রোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ করেননি এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নেও রতুয়া পিছিয়ে রয়েছে। পাল্টাপাল্টি এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে মহানন্দাটোলা ও বিলাইমারির বাসিন্দারা স্থায়ী বাঁধ ও নিরাপদ আশ্রয়ের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। বর্ষা আসার আগেই ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধানই এখন রতুয়ার সাধারণ ভোটারদের প্রধান দাবি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *