মালদহে বিচারক ঘেরাও তৃণমূলের সুপরিকল্পিত চক্রান্ত, বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর

মালদহের সুজাপুরে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর অনুশীলনের সময় বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও ও হেনস্থার ঘটনায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, এই নজিরবিহীন হিংসা ও বিশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং সুসংগঠিতভাবে করা হয়েছে। বিচারকদের এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখার নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
বিরোধী দলনেতার নিশানায় সরাসরি উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, মালদহের এই ঘটনার মূল পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে কালীঘাট থেকে তৃণমূলের শীর্ষ স্তরের নির্দেশে। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় নেত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে ব্যবহার করে এই পরিকল্পনা মাঠে নামিয়ে কার্যকর করা হয়েছে। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী এই বিশৃঙ্খলার দায় এড়াতে পারেন না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
মালদহে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে সাতজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে কয়েক ঘণ্টা বিক্ষোভকারীরা ঘেরাও করে রাখে। পরবর্তীতে নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের উদ্ধার করে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শুভেন্দু অধিকারী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, কালিয়াচক থানায় থাকা প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করে দেওয়া হতে পারে। আর জি কর হাসপাতালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্তের ভার এনআইএ বা সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিবাদে কলকাতা পুলিশের কালীঘাট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন শুভেন্দু। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে পুলিশি আচরণের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থ প্রশাসন উল্টে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ ও সামাজিক বয়কটের রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।
মালদহের এই ঘটনা গড়িয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। সুপ্রিম কোর্ট বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের আটকে রাখার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। আদালত এই ঘটনাকে ‘ধিক্কারজনক’ আখ্যা দিয়ে রাজ্য স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশ মহাপরিচালকের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জবাবদিহি তলব করেছে। আধিকারিকদের রক্ষায় পুলিশের নিস্ক্রিয়তা কেন ছিল, তা নিয়েও আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়েছে রাজ্য প্রশাসন।
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে নন্দীগ্রামের উদাহরণ টেনে দাবি করেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি সমর্থকদের ওপর সামাজিক ফতোয়া জারি করা হচ্ছে। সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা এবং ধর্মীয় স্থানে প্রবেশে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। সামগ্রিকভাবে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর হামলার এই ঘটনাকে তিনি গণতন্ত্রের ওপর বড় আঘাত বলে চিহ্নিত করেছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।