মালদহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টারের সামনে রহস্যময় ড্রোন, কড়া তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা বলয়ে বড়সড় গলদ। শনিবার দুপুরে মালদহের মালতীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টারের কাছে একটি সন্দেহভাজন ড্রোন উড়তে দেখা যায়। এই ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তৎক্ষণাৎ বিষয়টি খতিয়ে দেখার এবং কড়া তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ প্রশাসনকে। হেলিকপ্টারের এত কাছে ড্রোন চলে আসায় মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনাটি ঘটে মালতীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিতীয় জনসভা শেষে গাজোলের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন হেলিপ্যাডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই একটি ড্রোনকে হেলিকপ্টারের একদম সামনে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। ড্রোনটি নজরে আসতেই মুখ্যমন্ত্রী থমকে দাঁড়ান এবং মঞ্চ থেকেই উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেন। কারা এই ড্রোনের নেপথ্যে রয়েছে, তা খুঁজে বের করার জন্য তিনি কড়া বার্তা দেন।
নিরাপত্তা বেষ্টিত এলাকায় কীভাবে ড্রোনটি প্রবেশ করল, তা নিয়ে এখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সরকারি ব্যাখ্যা মেলেনি। সাম্প্রতিক সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর আকাশপথের যাত্রায় একের পর এক বিঘ্ন ঘটছে। এর আগে ২৬ মার্চ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তাঁর বিমান কলকাতায় অবতরণে দীর্ঘ সময় দেরি হয়েছিল। এমনকি গত ১ এপ্রিল মুর্শিদাবাদেও প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য তাঁর হেলিকপ্টার নির্দিষ্ট স্থানে নামতে না পারায় তিনি সড়কপথে যাত্রা করেছিলেন।
ভোটের আবহে মালদহের এই ড্রোন বিভ্রাট প্রশাসনিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। জনসভা ও হেলিপ্যাড চত্বরে ড্রোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এই অনুপ্রবেশকে চরম গাফিলতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর পরবর্তী নির্বাচনী সফরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে মালদহ জেলা পুলিশ ইতিমধেই তদন্ত শুরু করেছে।