মালদহ কাণ্ডে এবার নির্বাচন কমিশনকে তোপ মমতার

মালদহের ইংরেজবাজারে সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক ও তিন নারীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উগ্র জনতার হাতে বন্দি থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ার পর মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার এক জনসভা থেকে তিনি এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে এখন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে নেই, বরং নির্বাচন কমিশন ‘সুপার প্রেসিডেন্ট রুল’ বা অতি-রাষ্ট্রপতি শাসন চালাচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, মালদহের এই গুরুতর আইন-শৃঙ্খলার অবনতি সম্পর্কে তাঁকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। তিনি বলেন, “মালদহে কী হয়েছে তা আমার জানা ছিল না, কেউ আমাকে তথ্য দেয়নি।” তাঁর অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসনের বড় রদবদল ঘটিয়ে নির্বাচন কমিশন পুরো ব্যবস্থা নিজেদের দখলে নিয়েছে। ফলে বর্তমান অস্থিরতার দায়ভার কমিশনের ওপরই বর্তায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে এবং রাজ্য সরকারের কথা শুনছে না।
ঘটনার সূত্রপাত ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে। বিরোধীদের অভিযোগ, সুপরিকল্পিতভাবে তাদের সমর্থকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। গত বুধবার মালদহে বহু মানুষ তালিকায় নিজেদের নাম না দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত সাত বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে ঘিরে ধরে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা বন্দি করে রাখেন। গভীর রাতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় বিচারকদের গাড়িতে ভাঙচুর ও পাথর ছোড়ার খবর সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করে রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন প্রশাসনের এই ব্যর্থতা মূলত নির্বাচন কমিশনের অতি-সক্রিয়তা এবং রাজ্য সরকারকে পাশ কাটিয়ে চলা নীতিরই পরিণাম। তিনি সাফ জানান, তাঁর সমস্ত ক্ষমতা এখন কমিশনের হাতে।
আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই মালদহ কাণ্ড শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে যুদ্ধংদেহি মেজাজ তৈরি করেছে। বিজেপি যেখানে রাজ্যে ‘জঙ্গলরাজ’ চলার অভিযোগ তুলছে, সেখানে তৃণমূলের দাবি, কমিশনের হস্তক্ষেপের কারণেই প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। ভোট আবহে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং বিচারকদের ওপর হামলা এখন স্রেফ জেলাভিত্তিক ঘটনা নয়, বরং রাজ্য রাজনীতির প্রধান বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।