মালদহ হিংসার তদন্তভার হাতে নিল সিবিআই, আজই ঘটনাস্থলে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল

মালদহ হিংসার তদন্তভার হাতে নিল সিবিআই, আজই ঘটনাস্থলে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল

পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভয়াবহ হিংসার তদন্তভার শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। নির্দেশিকা পাওয়ার পরপরই সক্রিয় হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। জানা গেছে, শুক্রবারই সিবিআই-এর একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল মালদহের সংশ্লিষ্ট অকুস্থলে পৌঁছে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং পরিস্থিতির পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করবে।

উল্লেখ্য, এই মামলার গুরুত্ব বিচার করে বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে, এই স্পর্শকাতর ঘটনার তদন্ত এনআইএ করবে নাকি সিবিআই, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন। এরপরই আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করে নির্বাচন কমিশন সিবিআই-এর ওপর আস্থা প্রকাশ করে এবং তাদের দ্রুত তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেয়। এই পদক্ষেপের ফলে ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ ও দোষীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল মালদহে ভোটার তালিকা সংশোধনী প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকায় বেশ কিছু ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে রাখা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা এই নামগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের কাজ করছিলেন। সেই সময় একদল বিক্ষোভকারী ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে সরব হন এবং এসআইআর-এ অন্তর্ভুক্ত সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আধিকারিকদের উদ্ধারে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এলাকায়।

বিক্ষোভের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, বিডিও অফিস চত্বরে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উদ্ধার করতে নিরাপত্তা বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়। বুধবার গভীর রাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং নিরাপত্তা কর্মীরা লাঠিচার্জ করে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করেন। জনতা বিচারকদের গাড়ি লক্ষ্য করে ভাঙচুর চালানোর চেষ্টা করেছিল এবং রাস্তায় বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে পথরোধ করার পরিকল্পনা করেছিল। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর গভীর রাতে তিন মহিলা আধিকারিক সহ মোট সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে সুরক্ষিতভাবে সেখান থেকে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

নির্বাচন কমিশন এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। কমিশনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালকের (ডিজিপি) কাছে এই হিংসাত্মক ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে কমিশন বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে ভোটের মুখে এই ধরনের হিংসা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তার আগে মালদহের এই ঘটনা প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। সিবিআই তদন্তের মাধ্যমে এই ঘেরাও ও ভাঙচুরের ঘটনার নেপথ্যে কোনো বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখাই এখন কেন্দ্রীয় সংস্থার মূল লক্ষ্য। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে ইতিমধ্যেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *