মালদায় উন্মত্ত জনতার ঘেরাওয়ে প্রাণ বাঁচানোর লড়াই, ৯ ঘণ্টা আটকে বিচারকদের রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতায় শিউরে উঠছে রাজ্য

মালদার কালিয়াচকের মোথাবাড়িতে SIR প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রণক্ষেত্র পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় চলছে। ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনালের কাজে আসা ৩ মহিলা আধিকারিকসহ মোট ৭ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া ওই আধিকারিকদের ৯ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস বন্দিদশার যে বর্ণনা প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে শিউরে উঠছেন সাধারণ মানুষ।
গত বুধবার কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লক অফিসে ট্রাইব্যুনালের কাজ চলাকালীন দুপুরের পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। প্রতিদিনের মতো সকাল ১০টায় কাজে যোগ দিলেও লাঞ্চের সময় আধিকারিকরা বুঝতে পারেন অফিসের বাইরে বিশাল জনতা জমায়েত হয়েছে। বিকেল ৫টায় কাজ শেষ করে বেরোনোর কথা থাকলেও ক্ষুব্ধ জনতার ভিড় ঠেলে বেরোনোর কোনো উপায় ছিল না। ক্রমেই পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে।
নিরাপত্তার অভাব বোধ করে তিন মহিলা আধিকারিকসহ ৭ জন বিচারক প্রাণ বাঁচাতে তড়িঘড়ি অফিসের দোতলায় আশ্রয় নেন। বাইরে তখন উন্মত্ত স্লোগান আর বিক্ষোভ। উত্তেজিত মহিলারা অফিসের প্রধান ফটকের সামনে বসে দাবি তোলেন যে, তালিকায় তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতেই হবে। সময় যত গড়িয়েছে, বিডিও অফিসের ভেতরে আটকে থাকা আধিকারিকদের উদ্বেগ ততই বেড়েছে। প্রায় ৯ ঘণ্টা বন্দি থাকার পর পুলিশি সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
উদ্ধারের সময়ও পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। পুলিশি কনভয়ে করে যখন আধিকারিকদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন বিক্ষোভকারীরা সেই গাড়িবহরে হামলা চালায়। ইটের আঘাতে ভেঙে যায় পুলিশের গাড়ির কাচ। কার্যত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে করে এখনও আতঙ্কিত।
এদিকে এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মাস্টারমাইন্ড মোফাক্কেরুল ইসলামকে ইতিমধ্য়েই বাগডোগরা থেকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। তাকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপি ও তৃণমূল একে অপরের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছে। তবে ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে এনআইএ এই মামলার তদন্তভার হাতে নিয়েছে।
শুক্রবারই এনআইএ-র ২৪ জনের একটি প্রতিনিধি দল আইজি সোনিয়া সিংয়ের নেতৃত্বে মালদায় পৌঁছয়। তদন্তকারীরা মোথাবাড়ি থানা, স্থানীয় মোড় এবং বিডিও অফিস পরিদর্শন করে তিনটি পৃথক দলে বিভক্ত হয়ে নথিপত্র সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করেছেন। এই নজিরবিহীন হামলার নেপথ্যে কোনো বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।