মালদায় বিচারক হেনস্থা কাণ্ডে অ্যাকশনে এনআইএ তদন্তের জালে ৪৩২ জন সন্দেহভাজন

ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) কাজে মালদায় গিয়ে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের হেনস্থা ও ঘেরাও হওয়ার ঘটনায় অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই এই নজিরবিহীন ঘটনার তদন্তভার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। মালদার মোথাবাড়ি ও কালিয়াচক থানায় দায়ের হওয়া মোট ১২টি এফআইআর নতুন করে রুজু করে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন গোয়েন্দারা।
কেন্দ্রীয় তদন্তের মূলে সুপ্রিম নির্দেশ
এপ্রিলের শুরুতে তিন মহিলা বিচারক এবং এক পাঁচ বছরের শিশুসহ বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের প্রায় ৯ ঘণ্টা উন্মত্ত জনতা আটকে রেখেছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনার ভয়াবহতা দেখে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টকে চিঠি দেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলাটি গ্রহণ করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে। বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ঘটনার নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের জন্য এনআইএ-র হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
গোয়েন্দা নজরে ৪৩২ জনের কল ডিটেইল
এনআইএ-র বিশেষ দল ইতিমধ্যেই মালদায় পৌঁছে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং এর পেছনে বড় কোনো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে নিচের বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে:
- অভিযুক্ত ২৬ জন: রাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া ২৬ জন অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করবে এনআইএ।
- ৪৩২ জন সন্দেহভাজন: ঘটনার সময় ওই এলাকায় উপস্থিত এবং সক্রিয় থাকা ৪৩২ জনের কল ডিটেইলস (CDR) স্ক্যান করা হচ্ছে।
- মাস্টারমাইন্ডের খোঁজ: যদিও রাজ্য পুলিশ মোফাক্কেরুল ইসলাম ও মাওলানা মহম্মদ শাহজাহান আলী কাদরীকে গ্রেফতার করেছে, তবে এনআইএ এর নেপথ্যে থাকা মূল চক্রীদের খুঁজে বের করতে মরিয়া।
প্রশাসনের ভূমিকা ও আদালতের ক্ষোভ
এই মামলার শুনানি চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ফোন না ধরায় মুখ্য সচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালাকে আদালতের ভর্ৎসনা শুনতে হয়েছে এবং ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত মনে করছে, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা ৭০০ বিচার বিভাগীয় আধিকারিকের নিরাপত্তায় প্রশাসনের চরম গাফিলতি ছিল।
ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব
বিচার বিভাগের আধিকারিকদের ওপর এই ধরণের হামলা দেশের বিচার ব্যবস্থার মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এনআইএ তদন্তের মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করতে চায় যে, ভবিষ্যতে সরকারি কাজে নিযুক্ত আধিকারিকদের ওপর এই ধরণের আক্রমণ রোধ করা সম্ভব কি না। বর্তমানে সমস্ত নথিপত্র রাজ্য পুলিশের থেকে নিজেদের হাতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কেন্দ্রীয় এই সংস্থা।