মালদা কাণ্ডে সুপ্রিম ভর্ৎসনার পর নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব মমতা

মালদার মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাওয়ের ঘটনায় রাজ্য সরকারের ভূমিকায় তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির জনসভা থেকে এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে দায়ী করে পাল্টা তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে বিজেপির একটি গভীর ‘গেমপ্ল্যান’ বলে অভিহিত করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বাংলায় অস্থিরতা তৈরি করে বিধানসভা নির্বাচন বাতিল এবং রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার চক্রান্ত চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, বর্তমানে নির্বাচনের কারণে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার রাশ পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের হাতে। কমিশন নিজেদের পছন্দের আধিকারিকদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েও শান্তি বজায় রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “আমার সব ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা এখন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে। আমি এর আগে কখনও এমন পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশন দেখিনি।” মালদহের ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, প্রশাসন কেন তাঁকে সময়মতো প্রকৃত পরিস্থিতি জানায়নি।
এই ঘটনার নেপথ্যে বহিরাগত শক্তির উস্কানি রয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। নাম না করে হায়দ্রাবাদের একটি নির্দিষ্ট দল এবং জনৈক বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়কের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় কিছু মানুষকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্ররোচিত করা হচ্ছে যাতে রাজ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। এটি আদতে রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে কলুষিত করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল বলে তিনি মনে করেন।
বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংযত হওয়ার আবেদন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে তা সঠিক, তবে এই পরিস্থিতির মূল দায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন প্রশাসনের। তিনি সাধারণ মানুষকে কোনও ধরণের গুজবে কান না দেওয়ার এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানান। মমতা স্পষ্ট করে দেন যে, প্ররোচনায় পা দিয়ে আইন হাতে তুলে নিলে তা পরোক্ষভাবে বিরোধীদের হাতকেই শক্ত করবে, যা রাজ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
বক্তব্যের শেষে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যত বাধাই আসুক না কেন, তিনি জনগণের অধিকার রক্ষায় অবিচল থাকবেন। কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, বাংলা তথা রাজ্যের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, মালদা ইস্যুকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণ নির্বাচন কমিশন ও শাসক দলের সংঘাতকে এক নতুন মাত্রা দিল।