মালদা কাণ্ড সরাসরি তৃণমূল যোগের ইঙ্গিত, সুকান্ত মজুমদারের মোফাক্কেরুল ইস্যুতে তীব্র বিতর্ক

মালদা কাণ্ড সরাসরি তৃণমূল যোগের ইঙ্গিত, সুকান্ত মজুমদারের মোফাক্কেরুল ইস্যুতে তীব্র বিতর্ক

মালদার কালিয়াচকে সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খলা এবং বিচারকদের ঘিরে রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত তথা স্বঘোষিত মাস্টারমাইন্ড মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে পালানোর সময় তাঁকে পাকড়াও করা হয়। প্রশাসনের দাবি, তিনি দেশ ছেড়ে পালানোর ছক কষছিলেন।

এই গ্রেফতারির পরেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর নিশানায় সরাসরি উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের তৃণমূল বিধায়ক মোশারফ হোসেন। সুকান্ত মজুমদার প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন, ধৃত মোফাক্কেরুলের সঙ্গে তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতির কোনো গোপন যোগসূত্র রয়েছে কি না। বিজেপি নেতার দাবি, নেপালে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনায় শাসকদলের মদত থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, মোশারফ হোসেন তৃণমূলের একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। সাগরদিঘি উপনির্বাচনের ধাক্কার পর সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক সামলাতে দল তাঁকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছিল। উত্তর দিনাজপুর জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতির পাশাপাশি তিনি বর্তমানে দলের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতিত্ব করছেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হওয়া এই তরুণ নেতার নাম এখন কালিয়াচক কাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ায় অস্বস্তিতে শাসকদল।

তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মতে, পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম ঘটনার দিন হিংসায় উসকানি দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ ঘটনার পর থেকেই তাঁর ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল। অবশেষে বাগডোগরা থেকে তাঁকে আটক করার পর পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে। বিরোধী শিবির এই ঘটনায় বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক আসন্ন নির্বাচনগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তিন জেলাতেই মোশারফ হোসেনের সাংগঠনিক প্রভাব অনস্বীকার্য। এমন আবহে মোফাক্কেরুলের মতো বিতর্কিত চরিত্রের সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত হওয়া নিশ্চিতভাবেই তৃণমূলের জন্য চ্যালেঞ্জিং। তবে এই যোগসূত্রের অভিযোগ কতটুকু সত্য, তা এখন বিশদ তদন্তের বিষয়।

কালিয়াচকের ঘটনায় বিচারব্যবস্থার ওপর আঘাত এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল। মোফাক্কেরুল ইসলামের সঙ্গে কোনো প্রভাবশালী নেতার যোগাযোগ প্রমাণিত হলে তা রাজ্যের রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে। আপাতত তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং মোশারফ হোসেনের প্রতিক্রিয়ার দিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *