মাল বিধানসভায় ঘরের ছেলে বনাম বহিরাগত লড়াইয়ে উত্তপ্ত চা বলয়
উত্তরবঙ্গের মাল বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী পারদ তুঙ্গে। চা বাগানের শ্রমিক মহল্লা থেকে শুরু করে শহরের মোড়, সর্বত্রই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘ঘরের ছেলে’ বনাম ‘বহিরাগত’ বিতর্ক। রাজ্যের আদিবাসী ও অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের বিদায়ী মন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী বুলুচিক বরাইকের বিপরীতে বিজেপির সুকরা মুন্ডার লড়াই এই কেন্দ্রে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে।
চা শ্রমিকদের ঘরের ছেলে বুলুচিক
রাঙামাটি চা বাগানের এক সময়কার শ্রমিক বুলুচিক বরাইক নিজের এলাকায় ‘ঘরের ছেলে’ হিসেবেই পরিচিত। ভোর হতেই শ্রমিকদের সঙ্গে তাঁর মেলামেশা এবং ঘরোয়া সম্পর্ক নির্বাচনী ময়দানে তৃণমূলকে বাড়তি অক্সিজেন দিচ্ছে। চা শ্রমিকদের দেওয়া টিফিন কৌটা হাতে নিয়েই প্রচার সারছেন তিনি। বুলুচিকের দাবি, এলাকার ২৯টি চা বাগানের প্রতিটি সমস্যা তাঁর নখদর্পণে। গত পাঁচ বছরে ২৫০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পকে হাতিয়ার করেই তিনি জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।
বহিরাগত তকমা ও বিজেপি প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ
বিজেপি প্রার্থী সুকরা মুন্ডার বাড়ি পাশের এলাকা নাগরাকাটায় হওয়ায় তাঁর গায়ে সেঁটে গিয়েছে ‘বহিরাগত’ তকমা। যদিও সুকরা এই দাবি অস্বীকার করে নিজেকে চা শ্রমিকদের ‘কাছের মানুষ’ হিসেবে তুলে ধরছেন। বিজেপি শিবিরের ভরসা এখন মূলত মোদি হাওয়া এবং দলীয় প্রতীকের ওপর। তবে প্রার্থীর এলাকার বাইরের হওয়া নিয়ে কর্মীদের একাংশের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিজেপির প্রচারের গতিতে কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোটের পাটিগণিত ও উন্নয়নের প্রভাব
মাল বিধানসভার নির্বাচনী লড়াইয়ে চা বাগান এলাকার ভোট বড় ফ্যাক্টর। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের লিড এবার আরও বাড়বে। বিশেষ করে চা বাগানে পানীয় জল, রাস্তা, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং স্কুলবাসের মতো পরিষেবা প্রদান ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে শাসক দল। অন্যদিকে, ওদলাবাড়ি, বাগরাকোট এবং মাল পুরসভা এলাকায় তৃণমূল কিছুটা চাপে থাকলেও গ্রামীণ অঞ্চলের সমর্থন দিয়ে সেই ঘাটতি মেটাতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির।
এসআইআর এবং ভোটার তালিকা বিতর্ক
এবারের নির্বাচনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এসআইআর তালিকায় প্রায় ২১ হাজার ভোটারের নাম বিচারাধীনের আওতায় থাকা। এদের মধ্যে বড় অংশই আদিবাসী ও সংখ্যালঘু। এই ভোটারদের অবস্থান নির্বাচনের ফলাফলে বড় ভূমিকা নিতে পারে। তবে তৃণমূলের মতে, এই তালিকা থেকে নাম বাদ গেলেও তাদের জয়ের ব্যবধানে খুব একটা হেরফের হবে না।
একঝলকে
- মূল লড়াই: বুলুচিক বরাইক (তৃণমূল) বনাম সুকরা মুন্ডা (বিজেপি)।
- প্রধান ইস্যু: স্থানীয় বনাম বহিরাগত এবং চা বলয়ের উন্নয়ন।
- তৃণমূলের শক্তি: সরকারি প্রকল্প (লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, জয় জোহার) এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনসংযোগ।
- বিজেপির কৌশল: মোদি ম্যাজিক এবং দলীয় প্রতীকের ওপর নির্ভরতা।
- নির্ণায়ক শক্তি: চা বাগানের শ্রমিক এবং ২১ হাজার বিচারাধীন ভোটার।